[চর্যাপদের খুঁজে পাওয়া পুঁথিতে যে-পদগুলো পাওয়া গেছে, সেগুলোর চলতি বাংলায় রূপান্তরের কিস্তিওয়ারি প্রকাশ শেষ হলো।
একটা কথা উল্লেখ্য যে, পদগুলোর রূপান্তরে আমি কোনো আধুনিক কবিতা লেখার চেষ্টা করি নি। সান্ধ্যভাষায় লেখা এসব সাধনসঙ্গীতের রূপান্তরণে আমি যথাসাধ্য মূল পদকর্তাদের শব্দ, ভাব, ভঙ্গী, ছন্দ বজায় রাখতে চেয়েছি। তবে এগুলো যে আরো সংশোধন ও পরিমার্জনের অপেক্ষা রাখে, তা বলা বাহুল্য।
নেপালের রাজপ্রাসাদের পাঠাগার থেকে মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর খুঁজে পাওয়া পুঁথিটিতে আরো কয়েকটি পদের সঙ্গে ৪৮ নং চর্যাটিও পাওয়া যায় নি। কেবল এটুকু জানা গেছে যে, এটার রচয়িতা কুক্কুরীপাদ এবং গেয় রাগ পটমঞ্জরী। স্বভাবতই, চর্যাটির রূপান্তর করা গেলো না।
এখানে রূপান্তরিত ৪৯ নং চর্যাটির একটি পংক্তি আজকে প্রায় প্রবাদে পরিণত হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে– “আজি ভুসুকু বঙ্গালী ভইলী” (আজ ভুসুকু বাঙালি হলো)। আরো তাৎপর্যবহ হলো আপন আত্মস্বরূপ উপলব্ধি করতে পারাটাকেই তিনি ‘বাঙালি হলো’ রূপকে তুলে ধরেছেন। জাতিবাচক ‘বাঙালি’ শব্দটির সম্ভবত এটাই আদি প্রয়োগ। পদ্মা খাল বা নদীর উল্লেখও সম্ভবত এ চর্যাতেই প্রথম।
লেখাটি ধারাবাহিক প্রকাশকালে অনেকে এটা বই আকারে দেখতে চেয়েছেন। তাঁদের জ্ঞাতার্থে বলছি– ২০২১-এর একুশের বইমেলায় বইটা দিতে পারবো আশা রাখি।]
চর্যা-৪৫
কাহ্নপাদ
মণ তরু পাঞ্চ ইন্দি তসু সাহা ।
আসা বহল পাত ফলাহা হবাহা ।।
বরগুরু-বঅণে কুঠারেঁ ছিজঅ ।
কাহ্ণ ভণই তরু পূণ ন উইজঅ ।।
বাটই সো তরু সুভাসুভ পাণী ।
ছেবই বিদুজন গুরু পরিমাণী ।।
জো তরু ছেব ভেবউ ণ জাণই ।
সড়ি পড়িআঁ রে মূঢ় তা ভব মাণই ।।
সুন তরু গঅণ কুঠার ।
ছেবহ সো তরু মূল ন ডাল ।।
আধুনিক বাংলায়:
মন তরু, পঞ্চ ইন্দ্রিয় তার শাখা
আশার বহুল পাতা-ফলবাহী হয়ে থাকা।
বড়গুরুর বচনে তারে কুঠারে ছেদিবে
কাহ্নু বলছে, তরু পুন না উদিবে।
বেড়ে ওঠে সেই তরু শুভাশুভ পানিতে
ছেদে তাকে বিজ্ঞজন, গুরু প্রমাণেতে।
যে তরু ছেদের ভাবই নাহি জানে
সরে পড়ে রে মূঢ়, তা-ই ভব মেনে।
শূন্য তরু, গগন কুঠার দিয়ে
ছেদ সে-তরু, ডাল-মূল সব নিয়ে।
রূপকার্থ:
মন হলো গাছ, পঞ্চ ইন্দ্রিয় তার শাখা, আশাগুলো তার পাতা আর ফল। সদ্গুরুর উপদেশের কুড়াল দিয়ে এমনভাবে এই মনতরুকে কেটে ফেলতে হবে, যেন সে আবার গজাতে না পারে। অর্থাৎ সদগুরুর উপদেশ মেনে মনের বিকারগুলোকে এমনভাবে ধ্বংস করতে হবে, যেন সেগুলো আবার উৎপন্ন হতে না পারে। এই তরু শুভাশুভ বা পাপপুণ্যের জলসেচনে মনোভূমিতে গজিয়ে ওঠে। গুরুর উপদেশমত সাধক তাকে এমনভাবে ছেদন করবে, যেন তা আর বাড়তে না পারে। যারা এই তরুছেদনের ভাব বা রহস্য জানে না, তারাই মোক্ষমার্গ থেকে ভ্রষ্ট হয়ে সংসার দুঃখে পতিত হয়। কাহ্নুপাদ তাই এই সারশূন্য বা অসার তরুকে প্রকৃত শূন্যতারূপ গগনের কুঠার দিয়ে ডালপালাসহ সমূলে কেটে ফেলতে বলছেন।
চর্যা-৪৬
জয়নন্দী
পেখই সুঅনে অদশ জইসা ।
অন্তরালে মোহ তইসা ।।
মোহ বিমুক্কা জই মণা ।
তবেঁ তুটই অবণা গমণা ।।
নৌ দাটই নউ তিমই ন চ্ছিজই ।
পেখ মোঅ মোহেঁ বলি বলি বাঝই ।।
ছাঅ মাআ কাঅ সমাণা ।
বিণি পাখেঁ সোই বিণাণা ।।
চিঅ তথতা স্বভাবে যোহিঅ ।
ভণই জঅনন্দি ফুড়অণ ণ হোই ।।
আধুনিক বাংলায়:
দেখো স্বপ্নে অদেখাকে যেমন
অন্তরালে মোহও তেমন।
মোহবিমুক্ত যে-ই হবে মন
তবে টুটবে তার গমনাগমন।
পোড়ে না, ভেজে না, না ছিন্ন হয়
দেখ, মায়ামোহে বার বার বদ্ধ হয়।
ছায়া, মায়া, কায়া— সব সমান
বিনা পক্ষে সে-ই বিজ্ঞান।
চিত্ত যোজিয়ো তথতা** স্বভাবে
জয়নন্দি বলছে, স্ফূট* আর না হবে।
*স্পষ্ট; **অতীন্দ্রিয় ধর্ম
রূপকার্থ:
স্বপ্নে দেখা দৃশ্য যেমন সত্য নয়, অস্তিত্ব সম্পর্কিত মিথ্যাজ্ঞানও তেমনিই অলীক মাত্র। মনের এ বিকার নষ্ট হলে তবেই সংসারে আসা-যাওয়া বন্ধ হয়। এই চরম মোহমুক্ত মনকে ক্রোধ পোড়াতে পারে না, শোক অভিভূত করতে পারে না, বেদনা ছিন্নভিন্ন করতে পারে না। অথচ তারপরও মানুষ বার বার মোহপাশে আবদ্ধ হয়ে পড়ে। কিন্তু যাঁরা মোহবিমুক্ত হতে পেড়েছেন, তাঁদের কাছে অবাস্তব ছায়া ও মায়া আর বাস্তব কায়া বা দেহ—সব সমান, সবই অস্তিত্বহীন। আত্মপরভেদ লুপ্ত হয়ে তখন তাঁরা সত্যিকারের বিজ্ঞান বা বিশেষ জ্ঞান লাভ করেন। তথতা স্বভাবে চিত্ত বিশুদ্ধ হলে তা আর বিচলিত হতে পারে না।
চর্যা-৪৭
ধামপাদ
কমল কুলিশ মাঝেঁ ভইম মিঅলী ।
সমতা জোএঁ জলিঅ চন্ডালী ।।
ডাহ ডোম্বী খরে লাগেলি আগি ।
সসহর লই সিঞ্চহুঁ পাণী।।
নউ খর জালা ধূম ন দিশই ।
মেরু-শিখর লই গঅণ পইসই ।।
দাটই হরিহর বাহ্ম ভরা ।
দাটা হই ণবগুণ শাসন পড়া ।।
ভণই ধাম ফুড় লেহুঁ রে জাণী ।
পঞ্চ নালেঁ উঠে গেল পাণী ।।
আধুনিক বাংলায়:
কমল কুলিশ মাঝে হলাম মিতালি
সমতা যোগে জ্বলিল চণ্ডালী।
দহে ডোমনি, খর লাগিল আগুনি
শশধর* লয়ে সেঁচবো পানি।
নেই খর জ্বালা, ধোঁয়া না দরশি**
মেরুশিখর নিয়ে গগনে প্রবেশি।
হরি-হর-ব্রহ্মা সবাই দহিছে
নবগুণ, শাসনপট্ট দগ্ধ হচ্ছে।
ধাম বলছে, স্পষ্ট নেবো রে জানি
পঞ্চ নালে উঠে গেল পানি।
*চাঁদ, যা পরিশুদ্ধ চিত্তের প্রতীক; **দেখি
রূপকার্থ:
প্রজ্ঞা ও উপায়রূপ কমলকুলিশের মিলনে কবি মহাসুখে বা সহজানন্দে প্রবিষ্ট। এ অবস্থায় চণ্ডালীরূপিনী কবির বিষয়ানুভূতি দগ্ধ হয়ে গেছে। পরিশুদ্ধ চিত্তরূপ জল সেচন করে এই বিষয়ানুভূতির আগুন নেবাতে হবে। সাধারণ আগুনে খরজ্বালা, শিখা, ধোঁয়া প্রভৃতি দেখা যায়, কিন্তু জ্ঞানের আগুনের এসব বাহ্য লক্ষ্মণ নেই। এই জ্ঞানাগ্নিতে সমস্ত দ্বৈতভাব ও নবগুণ বা নয় প্রকার প্রাণবায়ু দগ্ধ হয়ে যায়। ধামপাদ বলছেন, তিনি এই মুক্তিতত্ত্ব স্পষ্টভাবে জেনে নেবেন, তাঁর পঞ্চ নালী দিয়ে নির্বাণজল ঊর্ধ্বে উত্থিত হচ্ছে।
[৪৮ নং পদটি খুঁজে পাওয়া যায় নি।]
চর্যা-৪৯
ভুসুকুপাদ
বাজ ণাব পাড়া পঁউআ খালেঁ বাহিউ॥
অদঅ দঙ্গালে ক্লেশ লুড়িউ ।।
আজি ভুসুকু বঙ্গালী ভইলী ।
ণিঅ ঘরিণী চন্ডালেঁ লেলী ।।
দহিঅ পঞ্চ পাটণ ইন্দি-বিসয়া ণঠা।
ণ জানমি চিঅ মোর কহিঁ গই পইঠা ।।
সোণ রুঅ মোর কিম্পি ণ থাকিউ ।
নিঅ পরিবারে মহাসুহে থাকিউ ।।
চউ-কোড়ি ভণ্ডার মোর লইআ সেস ।
জীবন্তে মইলেঁ নাহি বিশেশ ।।
আধুনিক বাংলায়:
বজ্রনাও যেন পদ্মা খালে বাইলো
নির্দয় ডাকাতে ক্লেশ লুটিলো।
আজ ভুসুকু বাঙালি হলো
নিজ ঘরনী চণ্ডালে নিলো।
দগ্ধিল পঞ্চ পাটন, ইন্দ্রিয় বিষয় হলো নষ্ট
না জানি চিত্ত মোর কোথা গিয়ে প্রবিষ্ট।
সোনা রুপা মোর কিছু না থাকিলো
নিজ পরিবারে মহাসুখে থাকিলো।
চার কোটি ভাণ্ডার মোর নিয়ে হলো শেষ
জীবন্তে মরিলে নাহি বিশেষ।
রূপকার্থ:
প্রজ্ঞার পদ্মাখালে বজ্ররূপ নৌকা বেয়ে গিয়ে চিত্ত শূন্যতার মিলনে মহানন্দে প্রবেশ করলো। অদ্বয় জ্ঞানরূপ জলদস্যু সমস্ত ক্লেশ লুট করে নিয়ে গেলো। আজ ভুসুকু সত্যজ্ঞানে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন, নিজের অপরিশুদ্ধ চিত্তকে ভাস্বর প্রকৃতিতে পরিস্রুত করে নিয়েছেন। রূপ-রস আদি পঞ্চ বিষয় ও ইন্দ্রিয়ের কামনা-বাসনা সব দগ্ধ হয়ে গেলো। এই নির্বিকল্প জ্ঞানের প্রভাবে চিত্ত কোথায় গিয়ে প্রবেশ করছে, তা কবি বুঝতে পারছেন না। সোনা-রুপা বা শূন্যতা ও রূপের জগতের সব ধারণা তাঁর লুপ্ত হয়ে গেছে, তিনি এখন সর্বশূন্যতায় লীন হয়ে গেছেন। এ অবস্থায় তাঁর চার কোটির বা চার ধরনের বিচারবুদ্ধি শেষ হয়ে গেছে, কারণ জীবন্ত অবস্থায় মৃত্যু সমতুল্য অবস্থায় পৌঁছতে পারলে আর কোনো বিশেষের বোধ অবশিষ্ট থাকে না।
চর্যা-৫০
শবরপাদ
গঅণত গঅণত তইলা বাড়ী হিএঁ কুরাড়ী।
কন্ঠে নৈরামণি বালি জাগন্তে সুঘাড়ী ।।
ছাড় ছাড় মাআ মোহা বিষমে দুন্দোলী ।
মহাসুহে বিলসন্তি শবরো লইআ সুণ মেহেলী ।।
হেরি যে মেরি তইলা বাড়ী খসমে সমতুলা ।
ষুকড় এবে রে কপাসু ফুটিলা ।।
তইলা বাড়ী পাসেঁর জোহ্না বাড়ী তাএলা ।
ফিটেলি অন্ধারি রে অকাশ ফুলিআ ।।
কঙ্গুচিনা পাকেলা রে শবরাশবরি মাতেলা ।
অণুদিণ শবরো কিম্পি ণ চেবই মহাসুহেঁ ভেলা ।।
চারিবাসে গড়িল রে দিআঁ চঞ্চালী।
তঁহি তোলি শবরো ডাহ কএলা কান্দই সগুণ শিআলী ।।
মারিল ভবমত্তা রে দহ দিহে দিধলী বলী ।
হেরি সে সবরো নিরেবণ ভইলা ফিটিলি ষবরালী ।।
আধুনিক বাংলায়:
গগনে গগনে তদলগ্ন বাড়ি হৃদয়ে কুড়ালি*
কণ্ঠে নৈরামণি বালিকা জাগিছে সহেলি।
ছাড় ছাড় মায়া মোহ বিষম দ্বন্দ্বময়
মহাসুখে বিলাসে শবর নিয়ে মেয়ে শূন্যতাময়।
সেই যে আমার তদলগ্ন বাড়ি খসম’র* সমতুল
সুন্দর হেথা রে ফুটিলো কাপাস ফুল!
কংনিদানা পাকলো রে, শবর-শবরী মাতিলো
অনুদিন শবর কিছু না বুঝে মহাসুখে রহিলো।
চার বাঁশে গড়িলো রে দিয়ে চাঁচালি***
তাতে তুলে শবরকে দাহ করিলো, কাঁদলো শকুন-শৃগালী।
মরিলো ভবমত্ত**** রে, দশ দিকে দিলো বলী*****
সেই সে শবর নির্বাণ হলো, ঘুচিলো শবরালি।
*কুঠার; **আকাশের; ***বাঁশ-বেত দিয়ে বানানো চাঁচাড়ি; ****সংসার নিয়ে মত্ত; *****মৃতের উদ্দেশ্যে দেয়া শ্রাদ্ধ-পিণ্ড প্রভৃতি
রূপকার্থ:
আকাশলগ্ন বাড়িতে নৈরামণিরূপ শবরীকে নিয়ে শবর বাস করে। সে-বাড়ির চারপাশে জনমানব নেই, শুধু দিগন্তবিস্তৃত কৃষিক্ষেত্রে কাপাসফুল ফুটে আছে। রাতে সেখানে জ্যোৎস্না ওঠে, পাকা কংনিদানার আসব পান করে শবর-শবরী মিলনানন্দে উন্মত্ত হয়। কিন্তু হায়, এ মিলন তো নিতান্তই ক্ষণস্থায়ী! একদিন শবরের মৃত্যু ঘটে, যথানিয়মে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। তার চিতায় শেয়াল-শকুন কাঁদে। কার্পাসের ক্ষেত ও জ্যোৎস্নায় উদ্ভাসিত রাত মানে হলো, জ্ঞানচন্দ্রের আলোকে মোহান্ধকার দূর হয়ে আকাশকুসুমের মতো মিলিয়ে যাওয়া এবং কার্পাস ফুলের মতো শূন্যতার স্পষ্ট হয়ে ওঠা। মদ্যপানে মাতাল হওয়া মানে যোগীর তুরীয়ানন্দে মগ্ন হওয়া। তাঁর মৃত্যু মানে নির্বাণ লাভ, শেয়াল-শকুনের কান্না মানে মায়ার বিলাপ। শবরের দাহ হলো মানে সমাধিস্থ যোগীর চিত্ত অচিত্ততায় লীন হয়ে গেলো।
……………………………………………………………………………………………………………………………………………………………………………….
আগের কিস্তিগুলোর লিঙ্ক:
https://banglapro.xyz/%e0%a6%9a%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%aa%e0%a6%a6-%e0%a6%86%e0%a6%a7%e0%a7%81%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%95-%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%82%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a7%9f/
https://banglapro.xyz/%e0%a6%9a%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%aa%e0%a6%a6-%e0%a6%86%e0%a6%a7%e0%a7%81%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%95-%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%82%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a7%9f-%e0%a6%a6%e0%a7%8d/
https://banglapro.xyz/%e0%a6%9a%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%aa%e0%a6%a6-%e0%a6%86%e0%a6%a7%e0%a7%81%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%95-%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%82%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a7%9f-%e0%a6%aa%e0%a6%9e/
https://banglapro.xyz/%e0%a6%9a%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%aa%e0%a6%a6-%e0%a6%86%e0%a6%a7%e0%a7%81%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%95-%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%82%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a7%9f-%e0%a6%9a%e0%a6%a4/
https://banglapro.xyz/%e0%a6%9a%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%aa%e0%a6%a6-%e0%a6%86%e0%a6%a7%e0%a7%81%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%95-%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%82%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a7%9f-%e0%a6%b8%e0%a6%aa/
https://banglapro.xyz/%e0%a6%9a%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%aa%e0%a6%a6-%e0%a6%86%e0%a6%a7%e0%a7%81%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%95-%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%82%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a7%9f-%e0%a6%aa%e0%a6%9e-2/
https://banglapro.xyz/%e0%a6%9a%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%aa%e0%a6%a6-%e0%a6%86%e0%a6%a7%e0%a7%81%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%95-%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%82%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a7%9f-%e0%a6%85%e0%a6%b7/