Loading

পুষপ চটরজীর ইতিবৃত্ত

[ধারাবাহিক এই লেখাটা আজ থেকে শুরু করলাম। এটা এবং পরবর্তী প্রতিটি কিস্তি পড়ার জন্যে পাঠকদের অনুরোধ জানাচ্ছি।] ১. তাকে নাম জিজ্ঞেস করলে বলতো, “মোর-অ নাম-অ পুষপ চটরজী, বাবু।” দত্তগিন্নি তখন মুখ ঝামটা দিয়ে বলতেন, “কিয়র চ্যাটার্জী, অ বুড়ি? ই’ন কী ক’র যে তুঁই?” (কিসের চ্যাটার্জী, বুড়ি? এগুলো কী বলছো তুমি?) একগাল হেসে বুড়ি তখন বলতো,

চর্যাপদ: আধুনিক বাংলায় (চতুর্থ কিস্তি)

চর্যা-২৩ ভুসুকুপাদ জই তুহ্মে ভুসূকু অহেই জাইবেঁ মারিহসি পঞ্চজণা । নলণীবন পইসন্তে হোহিসি একুমণা ।। জীবন্তে ভেলা বিহণি মএল ণঅণি । হণবিণু মাঁসে পদ্মাবণ পইসহিণি ।। মাআজাল পসরি উরে বাধেলি মাআ হরিণী । সদ্‌গুরু বোহেঁ বুঝিরে কাসু কদিনি ।।……… [বি.দ্র.- নেপালের রাজবাড়ির গ্রন্থাগার থেকে মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর উদ্ধার করা চর্যাপদের পুঁথিটিতে ২৩ সংখ্যক পদটির শেষাংশ

চর্যাপদ: আধুনিক বাংলায় (তৃতীয় কিস্তি)

চর্যা-১৯ কাহ্নপাদ ভব নির্ব্বাণে পড়হ মাদলা । মণ পবণ বেণি করন্ড কশালা ।। জঅ জঅ দুন্দুহি সাদ উছলিআঁ । কাহ্ন ডোম্বী বিবাহে চলিআ ।। ডোম্বী বিবাহিআ অহারিউ জাম । জউতুকে কিঅ আণুতু ধাম ।। অহণিসি সুরঅ পসঙ্গে জাঅ । জোইণি জালে রএণি পোহাঅ ।। ডোম্বী-এর সঙ্গে জো জোই রত্তো । খণহ ন ছাড়ই সহজ উন্মত্তো

অল্পবিদ্যা ভয়ঙ্করী

[লেখাটা ঠিক একবছর আগেকার। গত বছর (২০১৯) মে মাসের এই লেখাটুকু এ বছরের মে-তে এসে যেন আরো প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে, এমনটা মনে হওয়াতে এখানে আবার তুলে ধরলাম, অতীতের দিকে তাকিয়ে ভবিষ্যতকে শুধরে নেয়ার আত্যন্তিক আকাঙ্ক্ষায়। এ লেখার শেষে একটা প্রশ্ন রেখেছি, যার উত্তর এখনও পাই নি।] মানুষের কোন্ জ্ঞানটা সম্পূর্ণ? কোনোটাই না। মহাবিশ্ব থেকে পরমাণু

করোনার গোদের ওপর আম্ফানের বিষফোঁড়া

আগের রাতেও পশ্চিম বঙ্গের এক বন্ধু নিশ্চিন্তে বলছিলেন, “কী, আম্ফান তো আপনার দেশের দিকে চললো !! যা-ই বলুন, ঝড়-তুফানরা কিন্তু বাংলাদেশকে খুব ভালোবাসে।” আবহাওয়াবার্তা থেকে মানুষ ততক্ষণে জেনে গেছে, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ঠ আম্ফান বা আম্পান বা উম্পুন আবার দিকবদল করেছে। পশ্চিম দিকে ভারতের উড়িষ্যার দিকে যাওয়া স্থগিত রেখে সে রওনা হয়েছে উত্তরে বাংলাদেশকে তাক করে। আসার

চাঁদের উল্টোপিঠ

এ জীবনে ভালোবাসা চাও যতটুকু পাবে তার ঠিক সিকি কিংবা আধখানা। ঘৃণা কিন্তু না চাইতে ভরে দেবে করপুট, তিরস্কারে ভুলে যাবে পুরস্কারের সাধখানা।   এ হিসেব আগেভাগে যদি বুঝে নাও সার্থক জনম তোমার জন্মেছো এ দেশে। বিনিময়ে কিছু না পাওয়ার আশা যদি রাখো সার্থক জীবন তোমার শূন্যতা ভালোবেসে।   হাতের দু মুঠো ভরে নিয়ে যাই

শুভঙ্করের ফাঁকি

তিন-চার মাস গৃহবন্দী থেকেই মানুষ কেমন অস্থির হয়ে উঠেছে– শুভঙ্কর লক্ষ্য করে। এ অস্থিরতার বহিঃপ্রকাশ ঘটছে তাদের উৎকেন্দ্রিক আচার-আচরণে, গণ ও সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত তাদের নানা বক্তব্যে, লেখালেখিতে। স্কুল-কলেজে, অফিস-আদালতে, ক্ষেতেখামারে, কলকারখানায়, হাটে-বাজারে, হোটেল-রেস্তোরাঁয়, রাস্তাঘাটে নিত্যদিনের চিরঅভ্যস্ত থিকথিকে জনাকীর্ণ সামাজিক জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে মানুষ কেমন যেন অসুস্থ হয়ে পড়ছে। এটা অবশ্য স্বাভাবিক। কারণ সর্বোপরি

বলবো তো বলবে কি বলছে

আজকে ইচ্ছে বাংলা ভাষা নিয়ে কিছু বলবো। কিন্তু সেটা শুরু করছি একটা জনপ্রিয় হিন্দি গানের শুরুর কিছু পংক্তি দিয়ে। সত্তরের দশকের হিন্দি ছায়াছবি ’কসৌটি’র জন্যে গানটা লিখেছিলেন মালিক বর্মা, সুর করেছিলেন কল্যাণজি-আনন্দজি। গানটার সঙ্গে বাংলার একমাত্র সম্পর্ক হলো এটা গেয়েছেন একজন বাঙালি গায়ক– কিশোরকুমার গঙ্গোপাধ্যায়। গানটার প্রথম অনুচ্ছেদের কথাগুলো হলো: “হাম বোলেগা তো বোলোগে কি

চর্যাপদ: আধুনিক বাংলায় (দ্বিতীয় কিস্তি)

[চর্যাপদের প্রথম বিশটি চর্যার মধ্যে সিংহভাগই হলো কাহ্নপাদ (বা কাহ্নপা বা কাহ্নুপাদ বা কৃষ্ণপাদাচার্য)-এর রচনা। এই কুড়িটি চর্যার মধ্যে আটটিই (চর্যা নং ৭, ৯-১৩, ১৮-১৯) হলো কাহ্নপাদের। আজ এখানে দেয়া ছয়টা (১১ থেকে ১৬ সংখ্যক) পদের মধ্যে তিনটিই কাহ্নপার। রূপকাশ্রিত কবিতাগুলোর বোধগম্যতার জন্যে এগুলোর একটা করে রূপকার্থও দেয়ার চেষ্টা করেছি. যদিও সবকটার ক্ষেত্রে তা সম্ভব

সুপ্রভাত কবিতাগুচ্ছ

            তবুও সকাল কত যে সকাল এসেছে জীবনে, হিসাব কে রাখে তার! কিন্তু সকল সকাল তো নয় আলোর বার্তাবহ। কিছু সকালের উপহার হয় কত যে দুর্বিসহ! কিছু কিছু সকাল রাতের চেয়েও অন্ধকার। তবু প্রভাতের প্রত্যাশা রাখে সকল রাতের কুঁড়ি কারণ সকালই দেয় ফুল হয়ে ফোটার প্রতিশ্রুতি। সকল জীবন গায় করজোড়ে