Loading

বলো, ‘ভালোবাসি’

[কবিতাটা লিখেছিলাম গত ফেব্রুয়ারিতে। কঠিন করোনাকাল তখনও শুরু হয় নি। অথচ তখনই কিছু কথা বলেছিলাম, যেগুলো এই অকরুণ করোনাকালে আরো প্রাসঙ্গিক বলে মনে হচ্ছে…। কথাটা সত্যি কিনা, কবিতাটা পড়ে যাচাই করে দেখতে পারেন আগ্রহী পাঠকেরা।] হৃদয়গভীরে মন্দ্র স্বরে মন্ত্রোচ্চারণ করো– ‘ভালোবাসি!’ উচ্চারণ করো পলে পলে, দমে দমে, তোমার হিংসাবৃত্তি, ঈর্ষা অসূয়া কমে আসবে ক্রমে ক্রমে…

আমার শুধু জল

আমার কোনো আগুন নেই শুধুই চোখের জল, ধমনী-শিরায় রক্ত নেই, জলের চলাচল। পোড়াতে পারি না কাউকে, শুধু ভাসিয়ে নিতে চাই। বৃষ্টি হয়ে ঝরতে চাই ওড়ে যখন ছাই। আমার কোনো কামনা নেই, আছে শুধুই প্রেম, কাম্য কিছু পাই নি তাই, শুধুই হারালেম। আমার কোনো আগুন নেই দহন নেই বলে জড়ীভূত হয়ে আছি হিমানী অঞ্চলে। আমার ভাষা

চর্যাপদ: আধুনিক বাংলায় (শেষ কিস্তি)

[চর্যাপদের খুঁজে পাওয়া পুঁথিতে যে-পদগুলো পাওয়া গেছে, সেগুলোর চলতি বাংলায় রূপান্তরের কিস্তিওয়ারি প্রকাশ শেষ হলো। একটা কথা উল্লেখ্য যে, পদগুলোর রূপান্তরে আমি কোনো আধুনিক কবিতা লেখার চেষ্টা করি নি। সান্ধ্যভাষায় লেখা এসব সাধনসঙ্গীতের রূপান্তরণে আমি যথাসাধ্য মূল পদকর্তাদের শব্দ, ভাব, ভঙ্গী, ছন্দ বজায় রাখতে চেয়েছি। তবে এগুলো যে আরো সংশোধন ও পরিমার্জনের অপেক্ষা রাখে, তা

চাকর: স. ত. সেমিয়োনভের গল্প

[রুশ কথাশিল্পী সের্গেই তেরেন্তিয়েভিচ সেমিয়োনভ ১৮৬৮’র ২৮ মার্চ মস্কো গভর্নরেটের একটা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। দারিদ্র্যের কারণে তিনি শৈশবেই গ্রাম ছাড়তে বাধ্য হন, এবং এদিক ওদিক ফেরিওয়ালা, ঝালাইওয়ালা, মজুর, এমনকি এক অন্ধ ব্যবসায়ীর পথপ্রদর্শক প্রভৃতি নানা ছুটকো কাজ করে বেড়িয়েছেন। এসব অভিজ্ঞতাই তাঁর লেখার মালমশলা যুগিয়েছে। মস্কোর সাহিত্য চক্র ‘স্রেদা’র সদস্য ছিলেন সেমিয়োনভ। রুশ তথা বিশ্ব

চর্যাপদ: আধুনিক বাংলায় (অষ্টম কিস্তি)

চর্যা-৪১ ভুসুকুপাদ আইএ অণুঅনা এ জগ রে ভাংতিএঁ সো পড়িহাই । রাজসাপ দেখি জো চমকিই ষারে কিং তং বোড়ো খাই ।। অকট জোইআ রে মা কর হথা লোহা । আইস সভাবেঁ জই জগ বুঝষি তুট বাষণা তোরা ।। মরুমরীচি-গন্ধনইরী দাপতিবিম্বু জইসা । বাতাবত্তেঁ সা দিট ভইআ অপেঁ পাথর জইসা ।। বান্ধিসুআ জিম কেলি করই খেলই

চর্যাপদ: আধুনিক বাংলায় (সপ্তম কিস্তি)

চর্যা-৩৭ তাড়কপাদ অপণে নাহি সো কাহেরি শঙ্কা। তা মহামুদেরী টুটি গেলী কংখা ।। অনুভব সহজ মা ভোল রে জোই। চৌকোট্টি বিমুকা জইসো তইসো হোই ।। জইসনে অছিলেস তইছন অচ্ছ । সহজ পিথক জোই ভান্তি মাহো বাস ।। বান্ড কুরুণ্ড সন্তারে জাণী । বাক্‌পখাতীত কাঁহি বখাণী ।। ভণই তাড়ক এথু নাহিঁ অবকাশ॥ জো বুঝই তা গলেঁ

চর্যাপদ: আধুনিক বাংলায় (ষষ্ঠ কিস্তি)

চর্যা-৩৩  ঢেণ্ঢণপাদ টালত মোর ঘর নাহি পড়বেষী । হাড়ীত ভাত নাঁহি নিতি আবেশী ।। বেঙ্গসঁ ষংসার বড্‌হিল জাঅ । দুহিল দুধু কি বেন্টে ষামায় ।। বলদ বিআএল গবিআ বাঁঝে। পিটা দুহিএ এ তিনা সাঝে ।। জো সো বুধী সো ধনি বুধী । জো ষো চৌর সোই সাধী ।। নিতে নিতে ষিআলা ষিহে ষম জুঝঅ ।

নামগুলো

নামাবলী করে গায়ে জড়িয়ে রাখি নামগুলো যোগাযোগ মাধ্যম খুললেই যেসব মৃত নাম– টুপটাপ ঝরে পড়া যত বকুলের নাম… নামগুলো মুঠো করে ধরে ঘ্রাণ নিই, তাদের বিশীর্ণ পাঁপড়িতে ঝরে পড়ে আমার চোখ থেকেও কিছু মৃত কোষ অশ্রু যার নাম জীবিত নামগুলোর স্বাভাবিক উষ্ণতার ফাঁকফোকর দিয়ে এখন অবিরাম বয়ে চলেছে মৃত নামগুলোর হিমশীতল হাওয়া.. তারাকীর্ণ আকাশ থেকে

পুষপ চটরজীর ইতিবৃত্ত (দ্বিতীয় কিস্তি)

(পূর্বানুবৃত্তি) ৪. ছোট-বড় অসংখ্য ক্যাঙ, প্যাগোডা রয়েছে রেঙ্গুনে। মহামতি বুদ্ধের প্রতি বর্মিদের ভক্তি-ভালোবাসার কোনো অভাব নেই। প্যাগোডাগুলো সেই বুদ্ধপ্রেমের প্রতীক। ওগুলোর মধ্যে সেরার সেরাটি হলো শোয়েডাগন প্যাগোডা বা স্বর্ণ প্যাগোডা। রেঙ্গুনের কেন্দ্রস্থলে একটা ছোট পাহাড়ের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা এই প্যাগোডার কেন্দ্রীয় স্তূপটি বর্মী বৌদ্ধ স্থাপত্যমালার মধ্যমণি, রেঙ্গুন তথা সমগ্র বার্মার প্রতীকস্বরূপ, পৃথিবীর আশ্চর্যতম ও সুন্দরতম

চর্যাপদ: আধুনিক বাংলায় (পঞ্চম কিস্তি)

চর্যা-২৯ লুইপাদ ভাব ন হোই অভাব ণ জাই । আইস সংবোহেঁ কো পতিআই ।। লুই ভণই বট দুলক্‌খ বিণাণা । তিঅ ধাএ বিলসই উহ লাগে ণা ।। জাহের বানচিহ্ন রূব ণ জাণী । সো কইসে আগম বেএঁ বখাণী ।। কাহেরে কিষভণি মই দিবি পিরিছ্ছা । উদক চান্দ জিম সাচন মিচ্ছা ।। লূই ভণই ভাবই কীয্