Loading

উর্দুর উদ্ভব ও ক্রমবিকাশ-২

মির্জা আসাদুল্লাহ্ খান গালিব মোগল রাজত্বের অবসান আর ব্রিটিশ শাসনের সূচনা জুড়ে ছিলো গালিবের জীবনকাল। তাঁর জন্ম ১৭৯৭-এর ২৭ ডিসেম্বর তৎকালীন আকবরাবাদ (বর্তমান আগ্রা’র) দরিয়াগঞ্জে। মৃত্যু ১৮৬৯-এর ১৫ ফেব্রুয়ারি দিল্লির চাঁদনি চৌক এলাকার বাল্লিমারানে কাসিম জান গলির একটা বাড়িতে। বর্তমানে বাড়িটি ‘গালিবের হাবেলি’ নামে পরিচিত। ভারতবর্ষে দুটি পৃথক শক্তি (মোগল ও ব্রিটিশ)’র প্রতিষ্ঠিত দুটি সাম্রাজ্যের

শঙ্করাচার্যের মোহমুদ্গর

‘ব্রহ্ম সত্যং জগন্মিথ্যা  জীবো ব্রহ্মৈব নাপরঃ’ — অর্থাৎ শুধু আদিঅন্তহীন মহাশক্তি নিরাকার নিরঞ্জন ব্রহ্ম-ই একমাত্র সত্য, জগৎ মায়া বা ভ্রান্তিমাত্র, জীবকূলও ব্রহ্মের প্রকাশ ছাড়া আর কিছু নয়। ‘একমেব অদ্বিতীয়ম ব্রহ্ম’ — ব্রহ্মই একমাত্র, তাঁর কোনো দ্বিতীয় নেই — অনেকটা যেন ইসলামের তৌহিদবাদের প্রতিধ্বনি এ তত্ত্বের নাম ভারতীয় দর্শনে অদ্বৈতবাদ। এ তত্ত্বের উদ্গাতা অষ্টম শতকের ধর্মগুরু,

উর্দুর উদ্ভব ও ক্রমবিকাশ-১

আমির খসরু উর্দু ভাষার ভিতটা প্রথম গড়েছিলেন আমির খসরু (১২৫৩-১৩২৫)। ত্রয়োদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি উত্তর ভারতের স্থানীয় ভাষা হিন্দি’র বাগ্বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে ফার্সি আর আরবির মিশেলে এক ভাষা তৈরি করে তিনি কবিতা লিখতে থাকেন। ভাষাটার তিনি নাম দেন ‘হিন্দাবি’ বা ‘হিন্দাওয়ি’। আবুল হাসান ইয়ামিন-উদ-দিন খুসরাও, আমির খসরু (বা খুসরো) দেহলবি (দিল্লিওয়ালা) নামেই যিনি সমধিক পরিচিত, তিনি ছিলেন

ফরাসি কবিতা ও কবিরা

অবিভক্ত বাংলাদেশ (পশ্চিম বঙ্গসহ) কখনোই সরাসরি ফ্রান্সের উপনিবেশ ছিলো না, তবুও গোড়া থেকেই ফ্রান্সের সঙ্গে বঙ্গদেশের একটা আত্মিক বন্ধন দেখা যায়। ১৭৫৭-তে পলাশিতে উপনিবেশকামী ইংরেজদের সঙ্গে যুদ্ধে ফরাসিরা স্থানীয়দের পক্ষে অস্ত্র ধরেছিলো, অবশ্য তাদের ব্যবসায়িক স্বার্থ রক্ষার্থেই। ইংরেজদের তাড়াতে পারলে বাংলা তথা ভারত ফরাসি উপনিবেশ হতে পারত, কিন্তু সেটা হয় নি। অথচ তারপরও ১৯৭১-এ আরেক

ত্রিপুষ্প কবিচরণে: বাইশে শ্রাবণে রবিপ্রণাম

১. এখনো তোমার ছায়াতলে দাবদাহে দগ্ধ এ জীবনে বসি এখনো তোমার ছায়াতলে– হে প্রাচীন বনস্পতি। চারপাশে টুঁটি চেপে ধরে অন্ধকার, দশন-নখর মেলে ছুটে আসে শ্বাপদেরা যত দলে-বলে, যা বলিতে চাই, বলা হয় নাকো এই ক্রুর নগর জঙ্গলে। আকাশ বাতাস রুদ্ধ, অন্ধতার প্রাচীর ঘিরেছে জনপদ– এ কালবেলায় তুমি অনাথের নাথ, নিরাশ্রয়ের আশ্রয়। তোমার সুরের ধারা পাষাণ

‘তবু মনে রেখো’: বাইশে শ্রাবণে রবিপ্রণাম

আমার মনে হয়, ৮০ বছরের দীর্ঘ জীবন জুড়ে রবীন্দ্রনাথ এত যে লিখেছেন — এত কবিতা, গান, গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ ইত্যাদি, এর মূলে তাঁর একটা ইচ্ছেই কাজ করেছে, আর সেটা হলো জনমনে চিরস্থায়ী আসন লাভ। তাঁকে যেন আমরা মনে রাখি — এ বাসনা বার বার ধ্বনিত হয়েছে তাঁর বহু লেখায়, যার মধ্যে এ মুহূর্তে মনে পড়ছে

ও মা মনসা

[‘শিবের মানসকন্যা’-রূপে পরিচিতা অবৈদিক নাগদেবী মনসা ভারতবর্ষে, বিশেষ করে বঙ্গদেশে বহুমান্যা ও বহুলপূজিতা। পুরাণ গ্রন্থমালায়  ‘পদ্মপুরাণ’-এ মনসা বা পদ্মাবতীর কাহিনি পাওয়া যায় । তাঁকে কেন্দ্র করে মধ্যযুগীয় পুঁথিসাহিত্যে ‘মনসামঙ্গল’ নামে একটা বিশেষ ধারাই গড়ে ওঠে, যে-ধারার প্রধান কবি হিসেবে গণ্য করা হয় বিজয় গুপ্তকে। চট্টগ্রামে কিন্তু ‘বাইশ কবির মনসাপুঁথি’-ই প্রচলিত। শ্রাবণ মাসে মনসা পূজা উপলক্ষে

আমাদের হেমুবাবু

আজ ১৬ জুন হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের জন্মদিনে এই অবিস্মরণীয় ক্ষণজন্মা শিল্পী আর আমার সদ্যপ্রয়াত বাবাকে একসঙ্গে মনে পড়ছে। আমার কৈশোরে, তরুণ বয়সে আমার অসম্ভব হেমন্ত-প্রীতি দেখে বাবা কত যে ঠাট্টা করতেন! বলতেন, “তোদের ’হেমু’!” যেন হেমন্ত মুখুজ্যে আমাদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি গোছের কিছু! বাবার তখনকার চল্লিশোর্ধ্ব বয়সে নাকি বেশি ভালো লাগতো শচিন কর্তার আধুনিক গান, আর দেবব্রত

ছেলেটা

Sushant Singh Rajput: Blurred past evaporating from teardrops Unending dreams carving an arc of smile And a fleeting life, negotiating between the two… #माँ ❤️  ছেলেটা ছিলো শান্ত কেন হলো পথভ্রান্ত নাকি এ পথই ছিলো ঠিক পথ এ পরিণতি সে জানতো বিশ কেন এত বিষ হয় বাতাস মৃত্যুশিস হয় কেন ছেলেটার স্নায়ুতে রক্তে এত ‘বিপন্ন বিস্ময়’

আর্তুর রাঁব্যো’র দুটো কবিতা

[আর্তুর রাঁব্যো, পুরো নাম: জঁ নিকোলা আর্তুর রাঁব্যো (Jean-Nicholas Arthur Rimbaud; ২০ অক্টোবর, ১৮৫৪ – ১০ নভেম্বর, ১৮৯১) ফ্রান্সের তথা বিশ্বের সর্বকালের সেরা কবিদের একজন। মজার ব্যাপার হলো, রাঁব্যো তাঁর অধিকাংশ কবিতাই লিখেছিলেন তাঁর নিতান্ত কিশোর বা তরুণ বয়সে। মাত্র সতেরো বছর বয়সেই তুমুল আলোড়ন সৃষ্টিকারী কবিতার মাধ্যমে তিনি পারি’র (প্যারিসের) কবিসমাজকে উদ্বেলিত করে তুলেছিলেন।