Loading

খাসিয়া কবি উ সোসো থামের কবিতা

খাসিয়া কবি উ সোসো থাম ১৮৭৩ সালে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের চেরাপুঞ্জিতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁকে বলা হয়ে থাকে বৃষ্টি, মেঘমালা আর রামধনুর কবি। সোসো থাম ছিলেন শিলংয়ের সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রথম খাসিয়া শিক্ষক। বেশ বেশি বয়সেই তিনি লেখালেখি শুরু করেন, এবং অনূদিত কিছু কাজ বাদে নিজের কবিতার দুটো বই বের করেন। অতি নগণ্য এই প্রারম্ভ

শ্রীমতী সরোজিনী

শ্রীমতী সরোজিনী তোমারে আমি চিনি তোমার সাথে অতীতে কত হৃদয় বিকিকিনি হয়েছে, সেই স্মৃতি জাগিয়ে রাখে তিথি অতন্দ্র চন্দ্রমার ছায়ায় কত যে প্রেম প্রীতি মানস সরসীতে দেখেছি আরশিতে লীলা তোমার লীলাবতী নীরবে নিভৃতে না রেখে কোনো দাবি আজকে শুধু ভাবি পাবো কোথায় গত দিনে ফিরে যাওয়ার চাবি শ্রীমতী সরোজিনী হৃদয় নিলে জিনি বাজালে সুর মোহমধুর

ভরা কটাল, মরা কটাল

তোমার তখন ভরা কটাল তাই তার মরা কটাল খেয়াল করোনি তোমার উপচে পড়া জলরাশিতে তার যত অপূর্ণতা পূর্ণ করে দিয়েছো এখন যখন তোমার নিজেরই ভাটির টান তখন বড় চোখে পড়ে যায় তার জল সরে যাওয়া খাঁ খাঁ বুক, নুড়ি পাথর নতুন করে যেখানে জোয়ার জাগার কোনো আশা নেই কোনো আশ্রয় নেই উচ্ছ¡সিত কোনো জলধারার তবুও

মণিপুরী কবি শরৎচাঁদ থিয়ামের কবিতা

কবি, ভ্রমণকাহিনি রচয়িতা, ক্রীড়া কলামিস্ট শরৎচাঁদ থিয়ামের জন্ম ১৯৬১-তে, ভারতের মণিপুরের রাজধানী ইম্ফলে। উনি নেশায় কবি হলেও, পেশায় একজন প্রকৌশলী। কবিতা লেখা শুরু করেছিলেন খুব অল্পবয়সেই। তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয় ১৯৮০ সালে এবং পরে কবিতার আরো দুটি বই ‘ছো ছাবুন’ আর ‘আফ্রিকা’ প্রকাশিত হয় যথাক্রমে ১৯৮৯ এবং ১৯৯৩-এ। ১৯৯৪-এ প্রকাশিত তাঁর চতুর্থ বই ‘হাজিল্লাকপা

সাদাত হাসান মান্টো’র গল্প: কালো শালোয়ার

[গত ১১ মে ছিল উর্দু ও হিন্দি ভাষার বরেণ্য কথাসাহিত্যিক সাদাত হাসান মান্টো’র জন্মদিন। সেদিনই এ অনুবাদটা পত্রস্থ করার ইচ্ছে ছিল। কিন্তু পুরো কাজ শেষ না হওয়ায় সেটা পারিনি। অবশেষে আজ পক্ষকাল পর তাঁর লেখা বিখ্যাত গল্প ‘কালী শলওয়ার’-এর স্বকৃত বঙ্গানুবাদ পত্রস্থ করছি ‘কালো শালোয়ার’ নামে। এটা সুলতানা নামের এক পতিতার বিষণ্ণ কাহিনি, যাকে পুরুষরা

কিছু বাংলা শব্দের হরহামেশা ভুল উচ্চারণ প্রসঙ্গে

আমাদের টেলিভিশন, রেডিও প্রভৃতি প্রচার মাধ্যমে সংবাদ পাঠক ও অন্যান্য ঘোষক ও উপস্থাপকদের কিছু উচ্চারণ বড় শ্রুতিকটু ঠেকে। নানা প্রসঙ্গ সূত্রে শব্দগুলো বার বার আসে এবং ভুল উচ্চারিত হয়ে সচেতন শ্রোতার মর্মপীড়ার কারণ ঘটায়। এধরনের কয়েকটি শব্দ হল ‘ব্যবসা’, ‘ব্যবসায়ী’, ‘মতবিনিময়’, ‘ব্রণ’ প্রভৃতি। চ্যানেল নির্বিশেষে সব পাঠক-ঘোষক-উপস্থাপক এগুলোর ভুল উচ্চারণের ক্ষেত্রে দাঁড়িয়ে আছেন একই সারিতে।

প্রিয় বিয়ুফুল

বর্ষশেষের লগ্ন ঘনিয়ে এলেই ওরা ফোটে, ঝোপেঝাড়ে, বনেজঙ্গলে, থরে থরে, অজস্র অসংখ্য। ওদের কোনো বর্ষপঞ্জি লাগে না। বর্ষপঞ্জি সংস্কার কী, তাও তারা বোঝে না। সংস্কারের নামে ওরা বর্ষাবসানের সংক্রান্তি লগ্নে বর্ষশুরুর দিন পালন করে না। তবে ওদের বার্ষিক আগমন কাঁটায় কাঁটায় নির্ভুল। গ্রামের সাধারণ মানুষ ওদের প্রফুল্ল প্রস্ফূটন দেখেই বুঝতে পারে, বিষুব সংক্রান্তি– প্রিয় বিষু,

কবিতা কাদম্বরীর কবিতা

[নাম ‘কবিতা’ হলেই সবাই কবিতা লেখেন না, কিন্তু কবিতা কাদম্বরী লিখেছেন এবং লিখেই যাচ্ছেন। ভারতের নবীন প্রজন্মের কবিদের মধ্যে তিনি বহুলপঠিত ও পাঠকনন্দিত একজন। কবিতা কাদম্বরীর জন্ম ১৯৮৪-তে, উত্তর প্রদেশের বারাণসীতে। তিনি লেখেন হিন্দি ভাষায়। তাঁর রচনায় সাগরের ঢেউয়ের মতো ফুঁসে ওঠা আবেগমথিত ক্রোধ ও ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ বিশেষভাবে লক্ষণীয়। তাঁর একেকটি কবিতা বহুযুগলালিত অনেক অচল

ঠান্ডা গোশত: সাদাত হাসান মান্টো’র গল্প

[উর্দু সাহিত্যের অন্যতম দিকপাল সাদাত হাসান মান্টো’র পরিচয় নতুন করে দেয়ার অবকাশ কম। খ্যাতিমান এই লেখক রচিত ছোটগল্পগুলোর মধ্যে ‘ঠান্ডা গোশত’’-কে সেরাদের একটা বললে বোধহয় অত্যুক্তি হবে না। ভারত বিভাজন-কেন্দ্রিক সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার এক মর্ম ন্তুদ পরোক্ষ চিত্র রচিত হয়েছে এ কাহিনিতে। ফেসবুক বন্ধুদের জন্যে গল্পটা অনুবাদ করে দিলাম।] ……………………………………………………………. ঈশর সিংহ জুঁই হোটেলের কামরায় এসে

অরুণদা

অরুণদা, মানে অরুণ দাশগুপ্তকে নিয়ে লিখতে বসার আগে আন্তর্জালে অনুসন্ধান চালিয়ে তাঁকে নিয়ে লেখা কিছু লেখা পড়ে নিলাম, নতুন কোনো তথ্য-তত্ত্ব পাওয়ার আশায়। দেখলাম, সব লেখাই তাঁর মৃত্যুর পরে লেখা, এবং সেকারণেই কিনা কে জানে, লেখাগুলোতে তাঁকে মহামানব বানানোর একটা জোরালো প্রয়াস চালানো হয়েছে। লেখাগুলোতে মিথ্যে কিছু লেখা হয়েছে তা আমি বলছি না, কিন্তু সবই