Loading

শেষ স্যাল্যুট

এই কাশ্মীর যুদ্ধটাও ছিলো অদ্ভুত ধরনের। সুবাদার রব নওয়াজের মেজাজ এমন একটা বন্দুকের মতো হয়ে গিয়েছিলো, যেটার ঘোড়া (ট্রিগার) খারাপ হয়ে গেছে। বিগত মহাযুদ্ধে সে কয়েকটি রণক্ষেত্রে লড়াই করেছে। তখন সে মারতে আর মরতে জানতো। ছোট-বড় সব অফিসারের দৃষ্টিতে তার প্রতি বড় সম্মান ছিলো, কারণ সে ছিলো বড় বাহাদুর, নির্ভীক আর সমঝদার সেপাই। প্লাটুন কম্যান্ডার

আনারকলি: সাদাত হাসান মান্টো’র গল্প

তার নাম ছিলো সেলিম, কিন্তু তার বন্ধুবান্ধবেরা তাকে বলতো শাহজাদা সেলিম। তার চেহারা সুরত মোগলাই ছিলো, সুশ্রী ছিলো– সম্ভবত এ কারণেই। তার হাবেভাবে গর্ব যেন ঝরে ঝরে পড়তো। ওর বাবা ছিলো পিডবিøউডি অফিসের কর্মচারী। বেতন ছিলো খুব বেশি হলে একশ টাকা, কিন্তু থাকতো খুব ঠাটবাটের সাথে। ঘুষ খায় বলে শোনা যেতো। এ কারণেই সেলিম ভালোর

সেই মেয়েটি: সাদাত হাসান মান্টো’র গল্প

বিকেল সোয়া চারটে বেজে গিয়েছিলো, কিন্তু রোদে তখনও সেই তেজ যেমনটা দুপুর বারোটায় দেখা যায়। সে ব্যালকনিতে এসে বাইরে তাকালে একটা মেয়ে তার চোখে পড়লো। রোদ থেকে বাঁচার জন্যে মেয়েটা একটা গাছের ছায়ায় পা মুড়ে বসে ছিলো। তার গায়ের রঙ ছিলো গভীর কালো। এতটাই কালো যে, তাকে গাছটার ছায়ারই একটা অংশ বলে মনে হচ্ছিলো। ওকে

আর্টিস্টদের কথা: সাদাত হাসান মান্টো’র গল্প

মাহমুদ জামিলাকে প্রথম দেখে বাগ-এ-জিন্নাহ্য়। জামিলা তখন তার দুই বান্ধবীর সাথে কথা বলতে বলতে হেঁটে যাচ্ছিলো। ওদের সবার পরনে ছিলো কালো বোরকা। কিন্তু ওগুলোর নেকাব ওল্টানো ছিলো। মাহমুদ ভাবছিলো, শরীর বোরকায় ঢাকা কিন্তু চেহারা খোলা– এ পর্দার অর্থটা কী? জামিলার রূপে কিন্তু মাহমুদ খুবই মুগ্ধ হলো। সে তার বান্ধবীদের সঙ্গে হাসিখুশিভাবে হেঁটে যাচ্ছিলো। মাহমুদ তার

চোখ: সাদাত হোসেন মান্টো’র গল্প

তার সারা শরীরে তার চোখ দুটোই ছিলো আমার সবচেয়ে পছন্দের। চোখ দুটো পুরোপুরি এমন ছিলো যেন আঁধার রাতে মোটরকারের হেডলাইটের আলো, যা সবার আগে লোকের চোখে পড়ে। আপনি আবার এটা ভেবে বসবেন না যে তার চোখ দুটো খুব সুন্দর ছিলো। মোটেও তা নয়। সুন্দর আর বিশ্রীর মধ্যে পার্থক্য আমি যে বুঝি না, তা নয়। কিন্তু

বলো, ‘ভালোবাসি’  

হৃদয়গভীরে মন্দ্র স্বরে মন্ত্রোচ্চারণ করো– ‘ভালোবাসি!’ উচ্চারণ করো পলে পলে, দমে দমে, তোমার হিংসাবৃত্তি, ঈর্ষা অসূয়া কমে আসবে ক্রমে ক্রমে… তুমি দেখবে, তোমার চারপাশে শুধু গান আলো হাসি– দোহাই লাগে, আন্তরিকভাবে অন্তত একবার তুমি বলো– ‘ভালোবাসি!’   বললেই দেখবে তুমি ফুসমন্তর ম্যাজিক আখ্যান তখন কোথায় মোদি, কোথা তালেবান! কোথায় ট্রাম্প পুতিন কিংবা কিম ইল সুঙ্!

মেয়েছেলের জাত: সাদাত হোসেন মান্টো’র গল্প

রেসকোর্সে অশোকের দেখা হয়েছিলো মহারাজা গ-এর সঙ্গে। এর পর দুজনে অন্তরঙ্গ বন্ধু হয়ে গেলো। রেসের ঘোড়া পোষাটা মহারাজা গ-এর শুধু শখ ছিলো না, একটা বাতিকই ছিলো বলা যায়। ভালো ভালো জাতের অনেক ঘোড়া মজুদ ছিলো তাঁর আস্তাবলে আর তাঁর প্রাসাদটির গম্বুজ রেস কোর্স থেকে স্পষ্ট দেখা যেতো। অনেক আজব আজব জিনিস মজুদ ছিলো সেখানে। অশোক

১৯১৯ সালের একটি কাহিনি: সাদাত হাসান মান্টো’র গল্প

এটা ১৯১৯ সালের কথা ভাইজান, যখন রাউলাট অ্যাক্টের বিরুদ্ধে সারা পাঞ্জাবে এজিটেশন হচ্ছিল। আমি অমৃতসরের কথা বলছি। স্যার মাইকেল ওডায়ার ডিফেন্স অব ইন্ডিয়া রুলসের আওতায় গান্ধীর পাঞ্জাবে ঢোকা বন্ধ করে দিয়েছিল। উনি এদিকে আসার সময় পালওয়ালে তাঁকে থামিয়ে দিয়ে গ্রেফতার করে বোম্বাইয়ে ফেরত পাঠানো হয়েছিল। যদ্দূর আমি বুঝতে পারছি ভাইজান, ইংরেজ যদি এ ভুল না

শরৎচাঁদ থিয়ামের আরো তিনটি কবিতা

শরৎচাঁদ থিয়ামের জন্ম ১৯৬১-তে, ভারতের মণিপুরের রাজধানী ইম্ফলে। উনি নেশায় কবি হলেও, পেশায় একজন প্রকৌশলী। কবিতা লেখা শুরু করেছিলেন খুব অল্পবয়সেই। তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয় ১৯৮০ সালে এবং পরে কবিতার আরো দুটি বই ‘ছো ছাবুন’ আর ‘আফ্রিকা’ প্রকাশিত হয় যথাক্রমে ১৯৮৯ এবং ১৯৯৩-এ। ১৯৯৪-এ প্রকাশিত তাঁর চতুর্থ বই ‘হাজিল্লাকপা এইশিং গি মানাক্তা’ একটি ভ্রমণকাহিনী,

তোমার সন্তানেরা: কাহলিল জিব্রানের কবিতা

তোমাদের সন্তানেরা তোমাদের সন্তান নয়। তারা জীবনের নিজের জন্যে কামনার সন্তান। ওরা তোমাদের মাধ্যমে আসে কিন্তু তোমাদের থেকে নয়। এবং যদিও ওরা তোমাদের সঙ্গে আছে, তোমরা ওদের মালিক নও। তোমরা ওদেরকে তোমাদের ভালোবাসা দিতে পারো কিন্তু তোমাদের চিন্তাভাবনা নয়। কারণ তাদের নিজস্ব চিন্তাভাবনা আছে। তোমরা তাদের দেহকে ঘরে ধরে রাখতে পারো কিন্তু তাদের আত্মাকে নয়,