চর্যাপদ: আধুনিক বাংলায় (দ্বিতীয় কিস্তি)
[চর্যাপদের প্রথম বিশটি চর্যার মধ্যে সিংহভাগই হলো কাহ্নপাদ (বা কাহ্নপা বা কাহ্নুপাদ বা কৃষ্ণপাদাচার্য)-এর রচনা। এই কুড়িটি চর্যার মধ্যে আটটিই (চর্যা নং ৭, ৯-১৩, ১৮-১৯) হলো কাহ্নপাদের। আজ এখানে দেয়া ছয়টা (১১ থেকে ১৬ সংখ্যক) পদের মধ্যে তিনটিই কাহ্নপার।
রূপকাশ্রিত কবিতাগুলোর বোধগম্যতার জন্যে এগুলোর একটা করে রূপকার্থও দেয়ার চেষ্টা করেছি. যদিও সবকটার ক্ষেত্রে তা সম্ভব হয়ে ওঠে নি। ভবিষ্যতে এ ত্রুটি সংশোধন করে নেয়ার ইচ্ছে রাখি।
পাঠের ধারাবাহিকতার সুবিধার্থে লেখাটার প্রথম কিস্তির লিঙ্কও এখানে দেয়া হলো, যেখানে প্রথম দশটা চর্যার রূপান্তর পাওয়া যাবে।
https://banglapro.xyz/%e0%a6%9a%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%aa%e0%a6%a6-%e0%a6%86%e0%a6%a7%e0%a7%81%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%95-%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%82%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a7%9f/ ]

চর্যা-১১
রাগ: পটমঞ্জরী
কাহ্নপাদ
নাড়িশক্তি দিঢ় ধরিঅ খট্টে।
অনহা ডমরু বাজই বীরনাদে॥
কাহ্ন কপালী যোগী পইঠ অচারে।
দেহনঅরী বিহরই একাকারে॥
আলি কালি ঘণ্টা নেউর চরণে।
রবি শশী কুণ্ডল কিউ আভরণে॥
রাগ দেষ মোহ লাইঅ ছার।
পরম মোখ লবএ মুত্তাহার॥
মারিঅ শাসু নণন্দ ঘরে শালী।
মাঅ মারিআ কাহ্ন ভইল কবালী॥
আধুনিক বাংলায়:
নাড়িশক্তি দৃঢ় করে ধরিও খাটে
অনাহত ডমরু বাজে বীরনাদে।
কাহ্ন কাপালিক যোগী প্রবেশি আচারে
দেহনগরী বিহারে একাকারে।
আলো-কালোর ঘন্টা নূপুর চরণে
রবি শশী কুণ্ডল কর্ণাভরণে।
গায়ে মেখে রাগ দ্বেষ মোহের ক্ষার*
পরবো পরম মোক্ষের মুক্তাহার।
ঘরে মেরে শাশুড়ি ননদ শালী
মায়াকে মেরে কাহ্ন হলো কপালী।
*ছাই বা বিভূতি
রূপকার্থ: বত্রিশটি নাড়ীর মধ্যে প্রধান যে-নাড়ী, তাকে দৃঢ়ভাবে অবলম্বন করে একটি বিশেষ যোগাচারে কাহ্ন প্রবেশ করেছেন। অনাহত (শূন্যতারূপ) ডমরু ঘন ঘন বাজছে। দেহের সমস্ত ক্লেশ উপেক্ষা করে কাপালিক কাহ্নপাদ যোগধ্যানে নিমগ্ন। আলি-কালি (আলো-কালো) বা লোকজ্ঞান ও লোকাভাসকে তিনি পায়ের নূপুর করেছেন, রবী-শশী বা দিবারাত্রি জ্ঞানকে (গ্রাহ্য-গ্রাহক ভাবকে) করেছেন কানের কুণ্ডল। অর্থাৎ, এসব ভাবকে তিনি পরিশোধিত করে নিয়েছেন। রাগ-দ্বেষ-মোহ ইত্যাদিকে মহাসুখরূপ আগুনে পুড়িয়ে ফেলেছেন, তাদের ভস্ম মেখে নিয়েছেন নিজের গায়ে। তিনি মোক্ষস্বরূপ মুক্তাহার পরেছেন। শ্বাস রুদ্ধ করে, ইন্দ্রিয় দমন করে, মায়ারূপ অবিদ্যাকে ধ্বংস করে কাহ্ন কাপালিক হয়েছেন।

চর্যা-১২
রাগ: ভৈরবী
কাহ্নপাদ
করুণা পিহাড়ি খেলহুঁ নঅবল।
সদ্গুরুবোহেঁ জিতেল ভববল॥
ফীটউ দুআ মাদেসি রে ঠাকুর।
উআরি উএসেঁ কাহ্ন ণিঅড় জিনউর॥
পহিলেঁ তোড়িআ বড়িআ মারিউ।
গঅবরেঁ তোড়িআ পাঞ্চজনা ঘালিউ॥
মতিএঁ ঠাকুরক পরিনিবিতা।
অবশ করিআ ভববল জিতা॥
ভণই কাহ্নু আহ্মে ভাল দান দেহুঁ।
চউষঠ্ঠি কোঠা গুণিয়া লেহুঁ॥
আধুনিক বাংলায়:
করুণা পিঁড়ি* পেতে খেলছি নববল**
সদগুরুর কৃপায় জিতেছি ভববল***।
দু আভাস সরিয়ে মেরেছি ঠাকুর****
উপকারী উপদেশে কাহ্ন নিকটে জিনপুর।
প্রথমেই তেড়ে গিয়ে বোড়েগুলো মারি
গজবরকে***** তুলে পাঁচজন ঘায়েল করি।
মন্ত্রী দিয়ে ঠাকুরকে নিবৃত্ত করলাম
অবশ করে ভববল জিতলাম।
কাহ্ন বলছে, আমি ভালো দান দিই
ছকের চৌষট্টি কোঠা গুণে নিই।
*দাবাখেলার পীঠ বা ছক; **দাবাখেলা; ***সংসারশক্তি; ****দাবাখেলার রাজা; *****দাবাখেলার গজ বা হাতি
রূপকার্থ: চিত্তের সমস্ত দোষ পরিহার করে, করুণাময় চিত্তকে পীঠ করে, কায়-বাক-চিত্তের অতীত চতুর্থানন্দবল-রূপ দাবা খেলা হচ্ছে। গুরুর উপদেশে অবিরত আনন্দযোগ খেলা করার ফলে ভববল অক্লেশে জেতা হয়েছে। এই জয়ের পথে প্রথমে লোকজ্ঞান ও লোকাভাস—এ দুটো আভাসকে নাশ করা হলো, অবিদ্যামোহিত চিত্তের প্রতীক ঠাকুর বা দাবাখেলার রাজাকে মারা হলো। এখন দেখা যাচ্ছে, মহানন্দময় জিনপুর খুব কাছে, নিত্যানন্দ অনুভূতি পাওয়ার সময় সময় এসেছে। দাবাখেলার বড়েগুলি হছে নানারকম প্রকৃতি-দোষের রূপক। নির্বাণ-আরোপিত চিত্ত হচ্ছে গজ, প্রজ্ঞা হল মন্ত্রী; রাজাকে মাত করার অর্থ হলো চিত্তকে অচঞ্চল বা নির্বাণে প্রতিষ্ঠিত করা। দাবাখেলার ৬৪টি ঘর হল নির্মাণচক্র। এই উপমাগুলোর সাহায্যে কবি বলতে চেয়েছেন, প্রথমেই প্রকৃতি-দোষকে উৎপাটিত করা হল, নির্বাণে প্রতিষ্ঠিত চিত্ত দ্বারা অহঙ্কারাদি পঞ্চবিষয়গত দোষকে ঘায়েল করা হলো, প্রজ্ঞার সাহায্যে চিত্তকে নির্বাণে প্রতিষ্ঠিত করে রূপাদি বিষয়-সম্বলিত ভববলকে জেতা হলো। উপসংহারে কাহ্নপাদ বলছেন, দেখ, আমি কেমন ভাল দান দিই; নির্মাণচক্ররূপ চৌষট্টি কোঠায় আমি মন স্থির রেখেছি।

চর্যা-১৩
রাগ: কামোদ
কাহ্নপাদ
তিশরণ ণাবী কিঅ অঠকুমারী।
নিঅ দেহ করুণা শূণ মেহেরী॥
তরিত্তা ভবজলধি জিম করি মাঅ সুইনা।
মঝ বেণী তরঙ্গম মুনিআ॥
পঞ্চ তথাগত কিঅ কেড়ুআল।
বাহঅ কাঅ কাহ্নি ল মাআজাল॥
গন্ধ পরস রস জইসোঁ তইসোঁ।
নিংদ বিহুনে সুইনা জইসো॥
চিঅকণ্ণহার সুণতমাঙ্গে।
চলিল কাহ্ন মহাসুহসাঙ্গে॥
আধুনিক বাংলায়:
ত্রিশরণ নৌকা, তার আটটি কুমারী*
নিজ দেহ করুণা, শূন্য অন্তঃপুরী।
ভবজলধি যেন মায়া স্বপ্নে পেরুলাম।
মধ্য বেণীতে** তরঙ্গ মাপলাম।
পঞ্চ তথাগতে করে কেড়ুয়াল***
বেয়ে কায়া**** কেটে লও মায়াজাল।
গন্ধ স্পর্শ রস যেমন তেমন
নিদ্রাবিহীন স্বপ্ন যেমন।
চিত্ত-কর্ণধার শূন্যতা মার্গে
চলিল কাহ্ন মহাসুখ-সঙ্গে।
*কামরা; **স্রোতে; ***হাল বা দাঁড়; ****দেহ (রূপকার্থে—দেহতরী)
রূপকার্থ: বৌদ্ধ ধর্মের প্রধান তিনটি জিনিস বা ত্রিশরণ বুদ্ধ, ধর্ম ও সংঘকে আশ্রয় করে, এবং অণিমা, লঘিমা, প্রাপ্তি, প্রাকাম্য, মহিমা, ঈশিতা, বশিতা ও কামাবসায়িতা—এই আটটি বুদ্ধৈশ্বর্যের অনুভূতি সম্বল করে কাহ্নপাদ নিজ দেহে করুণা ও শূন্যের মিলন সংঘটিত করে ভবজলধি পার হয়েছেন। সাধনার মধ্যে দিয়ে তিনি মহাসুখ তরঙ্গ উপলব্ধি করতে পারছেন। পঞ্চ তথাগতকে দাঁড় হিসেবে ব্যবহার করে তিনি দে্হনৌকা বেয়ে মায়াজাল ছেদন করেছেন। গন্ধ-স্পর্শ-রস বা ইন্দ্রিয়ানুভূতিজ বিষয়গুলো এখন তাঁর কাছে ঘুমহীন স্বপ্নের মতো অলীক মনে হচ্ছে। শূন্যতারূপ নৌকায় চিত্তকর্ণধারকে বসিয়ে কাহ্ন মহাসুখসঙ্গমে বা নির্বাণানন্দের পথে চলেছেন।

চর্যা-১৪
রাগ: ধনসী
ডোম্বীপাদ
গঙ্গা জউনা মাঝেঁ রে বহই নাঈ।
তহিঁ বুড়িলী মাতঙ্গী জোইআ লীলে পার করেই॥
বাহ তু ডোম্বী বাহ লো ডোম্বী বাটত ভইল উছারা।
সদ্গুরু পাঅপসাএ জাইব পুণু জিণউরা॥
পাঞ্চ কেড়ুআল পড়ন্তে মাঙ্গে পিঠত কাচ্ছী বান্ধী।
গঅণ দুখোঁলে সিঞ্চহু পাণী ন পইসই সান্ধি॥
চন্দ সূজ্জ দুই চকা সিঠি সংহার পুলিন্দা।
বাম দাহিণ দুই মাগ ন চেবই বাহ তু ছন্দা॥
কবড়ী ন লেই বোড়ী ন লেই সুচ্ছড়ে পার করই।
জো রথে চড়িলা বাহবা ণ জা[ন]ই কুলেঁ কুল বুড়ই॥
আধুনিক বাংলায়:
গঙ্গা যমুনা মাঝে রে চলেছি নায়
সেখানে ডুবলে মাতঙ্গী যোগীকে লীলায় পার করায়।
বা* তুই ডোমনি, বা লো ডোমনি, পথে হয়ে গেলো দেরি
সদ্গুরু পাদপ্রসাদে যাবো পুনঃ জিনপুরী।
পাঁচ দাঁড় পড়ছে, মার্গের** পিঁড়িতে কাছি বেঁধে
গগনের দুখোলে পানি সেঁচি যাতে জোড়ায় না যায় সেঁধে।
চাঁদ ও সূর্য দুটি চাকা, সৃষ্টি সংহার করে দণ্ডে
বাম দক্ষিণ দু মার্গ না চেপে বেয়ে যা তুই ছন্দে।
কড়ি নেয় না, বুড়িও*** নেয় না, স্বেচ্ছায় পার করে
যে রথে**** চড়ে, তবে বাইতে জানে না, সে কুলে ডুবে মরে।
*বেয়ে যা; **পেছনের গলুইয়ে; ***সেঁউতিতে; ****বড় আকারের ও বেশি মানের কড়ি; *****রথ বলতে এখানে নৌকা বা যেকোনো যান বোঝানো হয়েছে

চর্যা-১৫
রাগ: রামক্রী
শান্তিপাদ
সঅসম্বেঅণ সরুঅবিআরেঁ অলক্খ লক্খণ ন জাই।
জে জে উজূবাটে গেলা অনাবাটা ভইলা সোই॥
কুলেঁ কুল মা হোই রে মূঢ়া উজূবাট সংসারা।
বাল তিল একু বাঙ্ক ণ ভুলহ রাজ পথ কণ্ঢারা॥
মায়ামোহসমুদা রে অন্ত ন বুঝসি থাহা।
অগে নাব ন ভেলা দীসঅ ভন্তি ন পুচ্ছসি নাহা॥
সুনা পান্তর উহ ন দীসই ভান্তি ন বাসসি জান্তে।
এষা অটমহাসিদ্ধি সিঝই উজূবাট জাঅন্তে॥
বাম দাহিণ দোবাটা চ্ছাড়ী শান্তি বুলথেউ সংকেলিউ।
ঘাট ন গুমা খড় তড়ি ণ হোই আখি বুজিঅ বাট জাইউ॥
আধুনিক বাংলায়:
স্বীয় সংবেদন স্বরূপ বিচারে অলক্ষ্য লক্ষণ হয় না
যে যে ঋজুবাটে* গেলো এই পথে ফিরে এলো না।
কূলে কূলে ঘুরে বেড়িয়ো না মূঢ়, এ সংসার ঋজুবাট
বালকের মতো তিলেক বাঁকে ভুলো না, রাজপথে ঘেরা কানাত।
মায়ামোহ সমুদ্রের অন্ত বুঝিস না, বুঝিস না তার ঠাঁই
আগে নাও ভেলা কিছুই নেই, ভ্রান্তিতে দিশা না পাই।
শূন্য প্রান্তর, সীমা দেখা যায় না, ভ্রান্তিতে ভুলো না পথ
অষ্টমহাসিদ্ধি এখানে পাবে চলো যদি ঋজুপথ।
বাম দক্ষিণ দুপথ ছেড়ে, শান্তি বলছে সংক্ষেপে,
ঘাট-গুল্ম-খাদ-তরাইহীন পথে চোখ বুঁজে যাও হেঁটে।
*সোজাপথ
রূপকার্থ:
সহজানন্দের অনুভূতি ইন্দ্রিয়াতীত বলে সেই অনুভূতি অলক্ষ্য এবং লক্ষণের সাহায্যে বা ভাষায় এর স্বরূপ ব্যাখ্যা করা যায় না। যাঁরা এই সহজ পথে গেছেন (বা সহজিয়া বৌদ্ধ মতের সাধনা করেছেন), তাঁরা মহাসুখ পেয়েছেন বলেই আর ফিরে আসেননি। সহজানন্দ লাভ করে বস্তু জগতের অস্তিত্বের সমস্ত ধারণা তাঁদের অন্তর থেকে চলে যায়। বস্তুজগতের কূলে কূলে পথহারা হয়ে ঘুরে বেড়ানো নিরর্থক। মূর্খরাই এই বস্তুজগত বা সংসারকে মহাসুখের সার বলে মনে করে, কিন্তু পণ্ডিতেরা তা করেন না। রাজা যেমন কানাত-ঘেরা পথ দিয়ে উদ্যানে যান, সেভাবেই সহজ সাধনার রাজপথ ধরে মহাসুখবনে প্রবেশ করতে হবে। বালযোগীরা এই মায়ামোহরূপ সংসার-সমুদ্রের অন্তও বোঝেন না, গভীরতাও বোঝেন না। আর তত্ত্বজ্ঞান না জন্মালে এই সংসারের স্বরূপ সম্পর্কে সঠিক ধারণা হতে পারে না। সংসার-সমুদ্র পার হওয়ার উপায় যদি খুঁজে না পাও, তবে গুরুকে জিজ্ঞেস করো। মূঢ় যোগী এই সহজ পথের সন্ধান না পেলেও যেন এ পথ না ছাড়েন, কারণ কেবলমাত্র এ পথেই অষ্টমহাসিদ্ধি পাওয়া যাবে। শান্তিপাদ তাই সংক্ষেপে বলছেন, প্রতিবন্ধকতাহীন এই সহজ পথেই চোখ বুঁজে এগিয়ে যেতে।
চর্যা-১৬
রাগ: ভৈরবী
মহিত্তাপাদ*
তিনিএ পাটেঁ লাগেলি রে অণহ কসণ ঘণ গাজই ।
তা সুনি মার ভয়ঙ্কর রে বিসএ মন্ডল সএল ভাজই ।।
মাতেল চীঅ গঅন্দা ধাবই ।
নিরন্তর গঅণন্ত তুসেঁ ঘোলই ।।
পাপপুণ্য বেণি তিড়িঅ সিকল মোড়িঅ খম্ভা ঠাণা ।
গঅণ টাকলি লাগি রে চিত্তা পইঠ ণিবানা ।।
মহারস পানে মাতেল রে তিহুঅন সঅল উএখী ।
পঞ্চ বিষয়রে নায়করে বিপখ কোবী ণ দেখী ।।
খররবি-কিরন-সন্তাপে রে গঅণগঙ্গা গই পইঠা ।
ভণন্তি মহিত্তা মই এথু বুড়ন্তে কিম্পিন পিঠা ।।
আধুনিক বাংলায়:
তিনটি পাটে** লাগলো অনাহত নাদ, কৃষ্ণ মেঘ গরজায়
তা শুনে মার ভয়ঙ্কর রে, বিষয় মণ্ডলসহ পালায়।
মাতাল চিত্ত-গজেন্দ্র ধায়
নিরন্তর গগনান্ত তৃষ্ণায় ঘোলায়।
পাপ-পুণ্যে বানানো শেকল ছিঁড়ে, ভেঙে স্তম্ভ-স্থান
গগন শিখরে উঠে চিত্ত প্রবেশিল নির্বাণ।
মহারস পানে মাতলো রে ত্রিভুবন সকলই উপেক্ষি
পঞ্চবিষয়ের নায়কের বিপক্ষে কাউকে না দেখি।
খররবি কিরণ সন্তাপে রে, গগনগঙ্গায় গিয়ে কর প্রবেশ
মহিত্তা বলছে, এখানে ডুবে আমি দেখি না কিছু উদ্দেশ।