Loading

সাদাত হাসান মান্টো’র গল্প: কালো শালোয়ার

[গত ১১ মে ছিল উর্দু ও হিন্দি ভাষার বরেণ্য কথাসাহিত্যিক সাদাত হাসান মান্টো’র জন্মদিন। সেদিনই এ অনুবাদটা পত্রস্থ করার ইচ্ছে ছিল। কিন্তু পুরো কাজ শেষ না হওয়ায় সেটা পারিনি। অবশেষে আজ পক্ষকাল পর তাঁর লেখা বিখ্যাত গল্প ‘কালী শলওয়ার’-এর স্বকৃত বঙ্গানুবাদ পত্রস্থ করছি ‘কালো শালোয়ার’ নামে। এটা সুলতানা নামের এক পতিতার বিষণ্ণ কাহিনি, যাকে পুরুষরা ব্যবহার করেছে খেলনার মতো।]

দিল্লি আসার আগে সে ছিল আম্বালা ছাউনিতে, যেখানকার কয়েকজন গোরা সৈনিক তার খদ্দের ছিল। ওই গোরাদের সঙ্গে মেলামেশার কারণে সে ইংরেজির দশ-পনেরোটা চালু কথা শিখে নিয়েছিল, যেগুলো সে সাধারণ আলাপ-আলোচনায় ব্যবহার করত না। কিন্তু দিল্লিতে আসার পর যখন তার ব্যবসা চলছিল না, একদিন সে তার প্রতিবেশিনী তমঞ্চা জানকে বলল, “দিস লাইফ… ভেরি ব্যাড।” অর্থাৎ এ জীবন খুব খারাপ, যখন কিনা সে খাবার জোটাতে পারছে না।

অম্বালা ছাউনিতে তার ধান্ধা ভালোই চলছিল। ছাউনির গোরার শরাব খেয়ে তার কাছে এসে যেত, আর সে তিন-চার ঘণ্টার মধ্যেই আট-দশজন গোরাকে নিংড়ে বিশ-তিরিশ টাকা বের করে নিত। এই গোরারা আমাদের দেশি লোকদের চেয়ে অনেক ভালো। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে ওরা এমন একটা ভাষায় কথা বলত যার অর্থ সুলতানা বুঝতে পারত না, কিন্তু ওর নিজের ভাষায় এই অক্ষমতা সে খুব ভালোভাবেই প্রকাশ করতে পারত। যদি সে ওদের কারো কোনোকিছু থেকে রেহাই চাইত তো মাথা হেলিয়ে বলে দিত, “সাহেব, তোমার কথা আমি বুঝতে পারছি না।”

আর যদি ওরা প্রয়োজনের চেয়ে বেশি শারীরিক দাবি করত তো সে শুরু করে দিত তার নিজের ভাষায় গালাগাল দেয়া। ওরা তাজ্জব হয়ে তার মুখের দিকে তাকিয়ে থাকলে সে তাদের বলত, “সায়েব, তুমি একদম গাধার বাচ্চা, হারামজাদা… বুঝলে?” এসব কথা বলার সময় সে তার গলার স্বর একটুও কড়া করত না, বরং ওদের সঙ্গে কথা বলত অত্যন্ত ভালোবাসার সঙ্গে। তার গালাগালগুলো শুনে গোরারা হেসে ফেলত, আর এই হাসি দেখে সুলতানার ওদেরকে একেবারে পুরোপুরি গাধার বাচ্চা বলে মনে হত।

কিন্তু এখানে দিল্লিতে আসার পর একটা গোরাও তার কাছে আসেনি। আজ তিন মাস ধরে সে হিন্দুস্তানের এ শহরটাতে আছে, যেখানে সে শুনেছিল বড়লাট থাকেন, যিনি গরমের সময় শিমলায় চলে যান। কিন্তু তার কাছে এ পর্যন্ত এসেছে মাত্র ছজন মানুষ… স্রেফ ছজন, অর্থাৎ মাসে দুজন, আর এই ছয় খদ্দেরের কাছ থেকে, খোদার কসম, সাড়ে আঠারো টাকার বেশি সে আদায় করতে পারেনি। তিন টাকার বেশি কেউ দিতেই চায় না।

সুলতানা ওদের মধ্যে পাঁচজনকে বলেছিল তার রেট দশ টাকা। কিন্তু তাজ্জবের কথা হল, ওদের প্রত্যেকেই বলল, “ভাই, আমরা তিন টাকার বেশি একটা ফুটো কড়িও দেব না।”

কেন কে জানে, ওদের প্রত্যেকেই তাকে স্রেফ তিন টাকার যোগ্যই ভেবেছে। তাই ষষ্ঠ জন যখন এল, সে নিজেই তাকে বলল, “দেখো, আমি এক টাইমের জন্যে তিন টাকা নেব। এর চেয়ে এক আধলা কম দিলেও কিন্তু নেব না। এখন তোমার মর্জি হলে থাকো, না হয় চলে যাও।”

ষষ্ঠ লোকটা এ কথা শুনে কোনো তর্ক না করেই রাজি হয়ে গেল। যখন অন্য কামরাটায় দরজা বন্ধ করে সে নিজের কোট খুলতে লাগল, তখন সুলতানা বলল, “নিন, দুধের জন্যে আর একটা টাকা দিন।” কিন্তু সে একটা টাকা তো দিল না, তবে পকেট থেকে নতুন বাদশাহ্’র চকচকে একটা আধুলি বের করে ওর হাতে দিল। সুলতানাও চুপচাপ ওটা নিয়ে নিল; ভাবল, ভাগ্যে যা জুটল তাই সই।

তিন মাসে সাড়ে আঠারো টাকা… বিশ টাকা হল এই বাসাটার ভাড়া, যেটাকে বাড়ির মালিক ইংরেজিতে ফ্ল্যাট বলে।

এই ফ্ল্যাটে এমন পায়খানা আছে, যেখানে শেকল টেনে দিলে সমস্ত নোংরা পানি দ্রæতগতিতে একদম নিচে নেমে গিয়ে গায়েব হয়ে যায় আর সেসময় খুব আওয়াজ হতে থাকে। শুরুতে শুরুতে তো এ আওয়াজে সে খুব ভয় পেয়ে যেত। প্রথম দিন যখন সে হালকা হওয়ার জন্যে এই পায়খানায় গেল, তার কোমরে তখন খুব যন্ত্রণা হচ্ছিল। চাপমুক্ত হয়ে যখন সে উঠতে গেল, তখন তাকে ওই ঝুলে থাকা শেকলের সাহায্য নিতে হল। শেকলটা দেখে তার মনে হয়েছিল, এই বাড়িটা সত্যিকার অর্থে তাদের মতো লোকদের জন্যেই বানানো হয়েছে, আর এই শেকল এজন্যেই লাগানো হয়েছে যাতে ওঠার সময় কষ্ট না হয় আর একটা অবলম্বন পাওয়া যায়। কিন্তু যেই না সে শেকলটা ধরে ওঠার চেষ্টা করল, ওপরে খটখট করে আওয়াজ হল আর তারপর এমন শোরগোল তুলে জল বেরিয়ে এল যে, ভয়ে তার মুখ দিয়ে চিৎকার বেরিয়ে এল।

অন্য কামরাটায় খোদাবক্স নিজের ফটোগ্রাফির জিনিসপত্র সাফসুতরা করছিল। একটা পরিষ্কার বোতলে হাইড্রোকুইনন ঢালতে ঢালতে সে সুলতানার চিৎকারটা শুনতে পেল। দৌঁড়ে বাইরে বেরিয়ে এসে সে সুলতানাকে জিজ্ঞেস করল, “কী হয়েছে? চিৎকারটা তোমার ছিল?”

সুলতানার বুকটা ধকধক করছিল। সে বলল, “এটা মরার পায়খানা নাকি আর কিছু! মাঝখানে রেলগাড়ির মতো একটা শেকল ঝুলিয়ে রেখেছে কেন? আমার কোমরে ব্যথা, তাই ভাবলাম, যাই এটার সাহায্য নিই। কিন্তু ওটাকে আঁকড়ে ধরার সাথে সাথেই এমন একটা ধমাকা হল যে তোমাকে আর কী বলব!”

এ কথা শুনে খোদাবক্স খুব হাসল। তারপর সে সুলতানাকে এই পায়খানার ব্যাপারে সবকিছু বুঝিয়ে দিয়ে বলল, এটা নতুন ফ্যাশানের পায়খানা যেখানে শেকল টানলে সব ময়লা নিচে নেমে গিয়ে মাটির ভেতরে চলে যায়।”

খোদাবক্স আর সুলতানার মধ্যে একটা পারস্পরিক সম্পর্ক কী করে হয়ে গেল, সে এক লম্বা কাহিনি। খোদাবক্স ছিল রাওয়ালপিণ্ডির লোক। এন্ট্রেন্স পাস করার পর সে লরি চালানো শেখে, আর তারপর রাওয়ালপিণ্ডি আর কাশ্মীরের মধ্যে লরি চালানোর কাজ করতে থাকে। এর পর কাশ্মীরের এক মেয়েছেলের সাথে তার দোস্তি হয়। তাকে ভাগিয়ে সে লাহোরে নিয়ে আসে। কিন্তু লাহোরে তার কোনো কাজকাম মিলল না। তখন সে ওই মহিলাকে দেহব্যবসায় নামিয়ে দিল।

দু-তিন বছর ধরে এ অবস্থা চালু রইল আর তারপর ওই মেয়েছেলেটা পালিয়ে গেল অন্য কারো সাথে। খোদাবক্স জানতে পারল সে আম্বালায় আছে। তার খোঁজে সে নিজেও আম্বালায় চলে এল, আর এখানেই সে পেয়ে গেল সুলতানাকে। তাকেও সুলতানার পছন্দ হল, আর এভাবেই দুজনের মধ্যে একটা সম্পর্ক হয়ে গেল।

খোদাবক্স আসার পর থেকে সুলতানার ব্যবসা একদম জমে উঠল। মেয়েছেলেটার নিজের ওপর বিশ^াসের কিছুটা খাকতি ছিল, আর তাই সে মনে করল, খোদাবক্স বড় ভাগ্যবান, যার আসাতে তার এত উন্নতি। অতএব এই খুশি অন্ধবিশ^াসী তার দৃষ্টিতে খোদাবক্সকে আরো ঊর্ধ্বে স্থান দিয়ে দিল।

খোদাবক্স ছিল পরিশ্রমী মানুষ। সারা দিন হাত ধরাধরি করে বসে থাকা সে পছন্দ করত না। তাই সে দোস্তি পাতিয়ে নিল এক ফটোগ্রাফারের সঙ্গে, যে রেল স্টেশানের বাইরে মিনিট ক্যামেরা দিয়ে ফটো তুলত। ওই বন্ধুর কাছ থেকে সে ফটো তোলা শিখে নিল। তারপর সুলতানার কাছ থেকে ষাট টাকা নিয়ে একটা ক্যামেরাও কিনে নিল। আস্তে আস্তে সে একটা পর্দা তৈরি করাল, দুটো চেয়ার কিনে নিল, এবং ফটো ওয়াশ করার সব জিনিসপত্র কিনে নিজে আলাদাভাবে ব্যবসা শুরু করে দিল।

ব্যবসা ভালোই চলছিল, তাই কিছুদিন পর সে নিজের বসার জায়গা আম্বালা ছাউনিতে সরিয়ে নিয়ে গেল। এখানে গোরারা ফটো তুলত। একমাসের ভেতরেই ছাউনির কয়েকজন গোরার সঙ্গে আলাপ-পরিচয় হয়ে গেল, আর তারপর সে সুলতানাকেও ওখানে নিয়ে গেল। ওখানে ছাউনিতে খোদাবক্সের কারণে কয়েকজন গোরা সুলতানার নিয়মিত খদ্দের হয়ে গেল, আর তার রোজগার আগের চেয়ে দ্বিগুণ হয়ে গেল।

সুলতানা একজোড়া কানফুল কিনল। সাড়ে পাঁচ ভরি সোনার আটটা চুড়িও বানিয়ে নিল। দশ-পনেরোটা ভালো ভালো শাড়িও কিনে নিল, ঘরে ফার্নিচার ইত্যাদিও এসে গেল। সংক্ষেপে কাহিনিটা হল, আম্বালা ছাউনিতে সে খুব সুখেই ছিল, কিন্তু হঠাৎ করে খোদাবক্সের মাথায় কী ঢুকল, সে দিল্লি চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিল।

এতে রাজি না হয়ে সুলতানাা কী-ই বা করার ছিল, যেহেতু সে খোদাবক্সকে নিজের জন্যে অত্যন্ত শুভ বলে মনে করত। সে খুশিমনে দিল্লি যেতে রাজি হয়ে গেল। তা ছাড়া সে এও ভেবেছিল, এত বড় শহরে যেখানে খোদ লাটসাব থাকেন, এখানে তার ধান্দা আরো ভালো চলবে। নিজের সহেলিদের কাছে সে ওই দিল্লি শহরের কত তারিফ শুনেছে। তা ছাড়া ওখানে আছে নিজাম উদ্দিন আউলিয়ার খানকাহ্, যাঁর প্রতি তার অসীম ভক্তি ছিল। তাই জলদি জলদি ঘরের সব ভারী জিনিসপত্র বেচেবুচে খোদাবক্সের সঙ্গে সে দিল্লি চলে এল। এখানে পৌঁছে খোদাবক্স কুড়ি টাকা মাসিক ভাড়ায় একটা ছোট ফ্ল্যাট নিল, যেখানে ওরা দুজন থাকতে লাগল।

সড়কের ধার বরাবর চলে গিয়েছিল একই ধরনের নতুন সব ভবনের দীর্ঘ সারি। মিউনিসিপাল কমিটি শহরের এ অংশে প্রকৃত বেশ্যাদের থিতু করার ব্যবস্থা করেছিল, যাতে তারা শহরের জায়গায় জায়গায় আড্ডা বানিয়ে তুলতে না পারে। তেতলা বাড়িগুলোর নিচের তলায় ছিল দোকান আর ওপরে দুই তলা জুড়ে ছিল আবাসিক ফ্ল্যাট। সব একই ডিজাইনের ভবন হওয়ায় প্রথম প্রথম নিজের ফ্ল্যাট খুঁজে বের করতে সুলতানার অনেক অসুবিধে হত। কিন্তু নিচের তলার লন্ড্রিওয়ালা যখন ঘরের কপালে নিজের সাইনবোর্ডটা লাগিয়ে দিল, তখন সে একটা পাকা নিশানা পেয়ে গেল। ‘এখানে ময়লা কাপড় ধোলাই করা হয়’– এ সাইনবোর্ড চোখে পড়লেই সে তার ফ্ল্যাটের খোঁজ পেয়ে যেত।

এভাবেই সে আরো অনেক চিহ্ন রেখেছিল। যেমন, যেখানে বড় বড় হরফে ‘কোয়েলের দোকান’ লেখা ছিল, সেখানে থাকত তার সহেলি হীরা বাঈ, যে কখনো কখনো রেডিয়ো স্টেশানে যেত গান গাওয়ার জন্যে; যেখানে ‘ভদ্রলোকদের খাওয়া দাওয়ার উত্তম ব্যবস্থা আছে’ লেখা আছে, ওখানে থাকত তার আরেক বান্ধবী মুখতার। নেয়াড়ের কারখানার ওপরে থাকত আনোয়ারি, যে ছিল ওই কারখানার শেঠের (মালিকের: অনুবাদক) রক্ষিতা। যেহেতু শেঠ সাহেবকে রাত্রিবেলা নিজের কারখানার দেখভাল করতে হত, তাই সে আনোয়ারির কাছেই থেকে যেত।

দোকান খুললেই কি আর খদ্দের আসে!– এক মাস ধরে সুলতানা যখন বেকার থেকে গেল, তখন সে এটা ভেবেই মনকে সান্ত¡না দিয়েছে। কিন্তু যখন দুমাস কেটে যাওয়ার পরও তার ঘরে কেউ এল না, তখন তার খুব দুশ্চিন্তা হল। খোদাবক্সকে সে বলল, “কী ব্যাপার, খোদাবক্স, দুমাস হয়ে গেল আমরা এখানে এসেছি, কিন্তু কেউ এখানে একদÐ দাঁড়াল না পর্যন্ত… মানছি যে আজকাল বাজার খুব মন্দা, কিন্তু এতটা মন্দা তো নয় যে মাসের পর মাস কারো চেহারাই দেখতে পাব না!”

খোদাবক্সের মনেও এ কথাটা অনেকদিন ধরে ধাক্কা দিচ্ছিল, তবে সে এ ব্যাপারে চুপ করেই ছিল। কিন্তু সুলতানা নিজেই যখন কথাটা তুলল, তখন সে বলল, “কয়েকদিন ধরে আমিও কথাটা ভাবছি। একটা কথা বুঝতে পারছি যে, যুদ্ধের কারণে লোকজন অন্যান্য ধান্দায় বড় বেশি ব্যস্ত হয়ে পড়াতেই এদিকের রাস্তা ভুলে গেছে… আবার এও হতে পারে যে…”

“এর পর তার আরো কিছু বলার ছিল, কিন্তু সিঁড়ি দিয়ে কার যেন উঠে আসার আওয়াজ পাওয়া গেল। খোদাবক্স আর সুলতানা দুজনের কানই এ শব্দের দিকে খাড়া হয়ে গেল। একটু পরে ঘরের দরজায় টোকা পড়ল। খোদাবক্স ছুটে গিয়ে দরজাটা খুলে দিল। ভেতরে এসে ঢুকল একজন লোক। ওটা ছিল সেই প্রথম খদ্দেরটা, যার সঙ্গে সুলতানার দর হিসেবে তিন টাকায় রফা হয়েছিল। এর পরে এসেছিল আরো পাঁচজন, অর্থাৎ তিন মাসে ছয়জন, যাদের কাছ থেকে সে মাত্র সাড়ে আঠারো টাকা আদায় করতে পেরেছে।

মাসে কুড়ি টাকা তো ঘরভাড়াতেই চলে যেত, জলের ট্যাক্স আর বিদ্যুতের বিল ছিল আলাদা। এ ছাড়া ঘরের অন্যান্য খরচও ছিল। খাওয়া দাওয়া, কাপড়চোপড়, ওষুধ আর মদ, আর এদিকে আয়রোজগার বলতে কিছু ছিল না। তিন মাসে সাড়ে আঠেরো টাকা এলে তো সেটাকে আয়রোজগার বলা যায় না। সুলতানা চিন্তিত হয়ে পড়ল। সাড়ে পাঁচ ভরি সোনার যে আটটা চুড়ি বানিয়েছিল, সেগুলো ধীরে ধীরে বিক্রি হয়ে গেল।

শেষ চুড়িটা বিক্রির পালা যখন এসে গেল, খোদাবক্সকে ডেকে সে বলল, “আমার কথাটা শোনো, চলো আম্বালায় চলে যাই, এখানে থাকার যুক্তিটা কী?… শহরটা ভালো হতে পারে, কিন্তু আমার ভালো লাগছে না। আম্বালায় তোমার কাজকর্মও খুব ভালো চলত। চল, ওখানেই চলে যাই। যেটুকু লোকসান হয়েছে, সেটা নিজের জীবনের সদকা ভেবে নাও। এ চুড়িটা বেচে এস, আমি জিনিসপত্র বেঁধেছেঁদে তৈরি হয়ে থাকছি। আজ রাতের গাড়িতেই এখান থেকে রওনা হয়ে যাব।”

খোদাবক্স সুলতানার হাত থেকে চুড়িটা নিয়ে বলল, “না, জানেমন, এখন আম্বালায় যাব না, এখানে দিল্লিতে থেকেই টাকা কামাব। তোমার সবকটা চুড়ি এখানেই আবার তোমার হাতে ফিরে আসবে। আল্লাহ্র ওপর ভরসা রাখ, তিনি অনেক বড় কারিগর। এখানেও কেউ না কেউ আসবাবপত্র বানিয়ে দেবেই।”

সুলতানা চুপ করে রইল, তবে শেষ চুড়িটা হাত থেকে নেমে গেল। নিজের চুড়িশূন্য হাত দুটো দেখে তার খুব দুঃখ হচ্ছিল, কিন্তু আর কীই-বা করার ছিল, পেটটাকেও তো কোনো উপায়ে ভরতেই হবে।

পাঁচ মাস যখন কেটে গেল আর ব্যয়ের তুলনায় আয় যখন চতুর্থ মাসের চেয়েও কিছু কম হল, সুলতানার দুর্ভাবনা আরো বেড়ে গেল। খোদাবক্সও এখন ঘর থেকে বেরিয়ে গিয়ে সারা দিনের জন্যে কোথায় গায়েব হয়ে যায়। এতেও দুঃখ হত সুলতানার। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, প্রতিবেশিনীদের মধ্যে দু-তিনজনের সঙ্গে তার সখ্যতা ছিল এবং চাইলে ওদের ওখানে সময় কাটাতে পারত। কিন্তু রোজ রোজ ওদের ওখানে যাওয়া আর ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকাটা তার খুব খারাপ লাগত। তাই ধীরে ধীরে সে ওই বান্ধবীদের সঙ্গে মেলামেশা একদম বন্ধ করে দিল।

সারা দিন সে তার সুনসান ঘরে বসে থাকত। কখনো কুচি কুচি করে সুপুরি কাটে, কখনো নিজের পুরোনো আর ছেঁড়া কাপড় চোপড় সেলাই করে, আর কখনো কখনো বাইরে ব্যালকনিতে এসে গাছপালারপাশে দাঁড়িয়ে থাকে, আর সামনে রেলওয়ে শেডে দাঁড়িয়ে আর চলতে থাকা ইঞ্জিনগুলোর দিকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা উদ্দেশ্যহীনভাবে তাকিয়ে থাকে।

রাস্তার অন্য পাশে একোণা থেকে ওকোণা পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল রেলওয়ের মাল গুদাম। ওখানে ডানদিকে লোহার ছাউনির নিচে পড়ে ছিল বড় বড় গাঁঠরি আর সবধরনের মালপত্রের স্ত‚প। বাঁ দিকে ছিল একটা খোলা মাঠ, যেখানে ছড়িয়ে ছিল রেলগাড়ির অসংখ্য লাইন। এসব রেললাইনের লোহার পাতগুলো রোদে চমকাতে থাকলে সুলতানা নিজের হাতের দিকে তাকাত, যেখানে ঠিক ওই রেলগাড়ির কামরাগুলোর মতোই নীল নীল রঙ ফুটে উঠেছিল। এই লম্বা আর খোলা মাঠটায় সারাক্ষণই রেলের যত ইঞ্জিন আর গাড়ি চলাচল করত। ককনো এদিকে, কখনো ওদিকে।

ওই ইঞ্জিনগুলো আর গাড়িগুলোর ঝক ঝক ধক ধক শব্দে জায়গাটা সবসময় সরগরম হয়ে থাকত। ভোরবেলা ঘুম থেকে উঠে যখন সে ব্যালকনিতে আসত, এক অদ্ভুত দৃশ্য চোখে পড়ত তার। আবছা আলোয় দেখা যেত, ইঞ্জিনগুলোর মুখ থেকে ঘন ধোঁয়া আকাশের দিকে উঠে যাচ্ছে মোটা আর ভারী সব মানুষের মতো।

বাষ্পের বড় বড় মেঘও সশব্দে উঠে আসত রেলের বগিগুলো থেকে আর হাওয়ার ঝাপটায় চোখের নিমেষে ভেঙেচুরে কোথায় মিলিয়ে যেত। আবার কখনো কখনো কোনো বগিকে যখন কোনো ইঞ্জিন ধাক্কা মেরে ছেড়ে দিত, ওটাকে রেললাইনের ওপর দিয়ে একা একা চলতে দেখলে তার নিজের কথা মনে পড়ে যেত।

তার মনে হত, কে যেন তাকে জীবনের রেললাইনের ওপর ছেড়ে দিয়েছে আর সে নিজে নিজেই ওই লাইন ধরে এগিয়ে যাচ্ছে। অন্য লোক হাতল ঘোরায় আর সে চলতে থাকে… কে জানে কোথায়। তবে একদিন এমন আসবে যখন ধাক্কার জোর আস্তে আস্তে শেষ হয়ে যাবে আর সে কোথাও গিয়ে থেমে যাবে। এমন কোনো এক স্টেশানে, যেখানে ওর দেখভাল করার কেউ থাকবে না।

সে ভাবত, তাকেও কেউ ধাক্কা দিয়ে জীবনের লাইনের ওপর ছেড়ে দিয়েছে আর এখন সে নিজে নিজেই এগিয়ে চলেছে,,, কোথায় কে জানে। তারপর একদিন এমন আসবে যখন ওই ধাক্কার জোর ধীরে ধীরে কমে আসবে আর সে কোথাও থেমে যাবে। এমন কোনো এক এক গন্তব্যে যেখানে ওর দেখাশোনার কেউ থাকবে না।

এভাবে তো সে উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘণ্টার পর ঘণ্টা রেলের ওই আঁকাবাঁকা লাইনগুলো আর তার ওপর চলমান বা থেমে থাকা ইঞ্জিনগুলোর দিকে তাকিয়ে থাকত, আর তার মাথার মধ্যে খেলে যেত নানা ধরনের ভাবনা। যখন সে আম্বালা ছাউনিতে থাকত, তার বাড়ি ছিল রেল স্টেশানের পাশেই, কিন্তু তারপরও ওখানে সে এসব জিনিস কখনো এমন খেয়াল করে দেখেনি। এখন তো কখনো কখনো তার এমনও মনে হত যে, সামনে যে জালের মতো রেললাইন পাতা আছে, যার বিভিন্ন জায়গা থেকে ভাপ আর ধোঁয়া উঠছে, এটা এক বিরাট বেশ্যাপাড়া। অনেক গাড়িকে মোটা মোটা ইঞ্জিন ধাক্কা দিয়ে দিয়ে এধার ওধার নিয়ে যেতে দেখা যেত। এসব ইঞ্জিনকে সুলতানার মনে হত সেসব শেঠের মতো, যারা আম্বালায় তার ওখানে আসা যাওয়া করত। আবার কখনো কখনো কোনো গাড়ির সারির পাশ দিয়ে কোনো ইঞ্জিনকে আস্তে আস্তে যেতে দেখলে তার মনে হত যেন কেউ বেশ্যাপাড়ার কোনো বাজার থেকে ওপরের কোঠিগুলোর দিকে তাকাতে তাকাতে চলেছে।

সুলতানা বুঝতে পারত, এমন সব চিন্তাভাবনা মাথা খারাপের লক্ষণ। তাই যখন থেকে তার মাথার মধ্যে এসব চিন্তাভাবনার উদয় হতে লাগল, ব্যালকনিতে যাওয়াটাই সে ছেড়ে দিল। খোদাবক্সকে সে বার বার বলেছে, “আমার এ অবস্থায় একটু রহম কর। এখানে ঘরে থাক। আমি এখানে সারা দিন রোগীর মতো পড়ে থাকি।” কিন্তু খোদাবক্স প্রত্যেকবার এটা বলে তাকে প্রসন্ন করে দেয়, “জানেমন… আমি বাইরে যাই কিছু কামানোর ধান্দায়। আল্লাহ্র ইচ্ছায় কযেক দিনের মধ্যেই বেড়া পার হয়ে যাব।”

পুরো পাঁচ মাস কেটে গেল, কিন্তু না সুলতানা, না খোদাবক্স, কারোরই এখনো বেড়া পেরুনো হয়নি।

মহররম মাস একেবারে ঘনিয়ে এল, কিন্তু সুলতানার কাছে কালো পোশাক বানানোর জন্যে কিছুই ছিল না। মুখতার লেডি হ্যামিল্টনের এক নতুন ঢঙের কামিজ বানিয়েছিল, যেটার আস্তিন ছিল কালো জর্জেটের। সেটার সঙ্গে ম্যাচ করানোর জন্যে তার কালো সাটিনের শালোয়ার ছিল, যেটা চকচক করত কাজলের মতো।

আনোয়ারি একটা খুব সুন্দর রেশমি জর্জেটের শাড়ি কিনেছিল। সে সুলতানাকে বলেছিল, সে ্ শাড়িটার নিচে সাদা পিওর সিল্কের পেটিকোট পরবে, কারণ এটাই এখনকার নতুন ফ্যাশান। এই শাড়ির সঙ্গে পড়ার জন্যে আনোয়ারি কালো মখমলের একজোড়া জুতো কিনেছে, যেগুলো খুব কোমল। এসব জিনিসপত্র দেখার পর এই বোধটা তাকে খুব দুঃখ দিল যে, মুহররম পালনের জন্যে এমন পোশাক আশাক কেনার সাধ্য তার নেই।

আনোয়ারি আর মুখতারের এসব পোশাক দেখে যখন সে ঘরে এল, তার মনটা খুব ভারী হয়ে ছিল। তার এমন মনে হচ্ছিল যেন তার ভেতরে একটা ফোঁড়া উঠেছে। ঘরটা পুরোপুরি খালি ছিল। খোদাবক্স যথানিয়মে বাইরেই ছিল। সুলতানা অনেকক্ষণ পর্যন্ত মাথার নিচে একটা তাকিয়াদিয়ে সতরঞ্জির ওপর শুয়ে রইল, কিন্তু তাকিয়ার উচ্চতার কারলে তার ঘাড় ধরে যাওয়ায় সে শোয়া থেকে উঠে ব্যালকনিতে চলে গেল, যাতে দুঃখের ভাবনাগুলো মন থেকে চলে যায়।

সামনে রেললাইনের ওপর ট্রেনের বগিগুলো দাঁড়িয়ে ছিল, কিন্তু কোনো ইঞ্জিন ছিল না। তখন সন্ধ্যে ঘনিয়ে এসেছে। রাস্তায় জল ছেটানো হয়ে গিয়েছে, যার ফলে উড়ন্ত ধুলোবালি বসে গিয়েছে। বাজারে এমনসব মানুষের চলাফেরা শুরু হয়ে গিয়েছে, যারা এদিক ওদিক উঁকিঝুঁকি মেরে চুপচাপ বিভিন্ন ঘরে ঢুকে পড়ছে।

এরকমই একটা লোক ঘাড় উঁচু করে সুলতানার দিকে তাকাল। সুলতানা হেসে ফেলল আর তারপর তার কথা ভুলে গেল, কারণ ততক্ষণে সামনের রেললাইনের ওপর একটা ইঞ্জিনের আবির্ভাব ঘটেছিল। সুলতানা নিবিষ্ট মনে সেদিকে তাকিয়ে রইল, আর ধীরে ধীরে তার মনে হতে লাগল এই ইঞ্জিনটাও কালো পোশাক পরেছে।

এই অদ্ভুত ধারণাটা মন থেকে তাড়ানোর জন্যে যখন সে আবার রাস্তার দিকে তাকাল, তার চোখে পড়ল ওই লোকটা একটা গরুর গাড়ির পাশে দাঁড়িয়ে লোলুপ নজরে তার দিকে তাকিয়ে আছে। সুলতানা তাকে হাত দিয়ে ইশারা করল ওপরে আসার জন্যে। লোকটা এদিক ওদিক তাকিয়ে একটা ভদ্রজনোচিত ইশারায় জিজ্ঞেস করল কোন্ দিক দিয়ে আসবে। সুলতানা তাকে রাস্তা বাতলে দিল। লোকটা কিছুক্ষণ ওখানেই দাঁড়িয়ে রইল, কিন্তু তারপর ওপরে চলে এল খুব ফুর্তির সঙ্গেই।

সুলতানা তাকে সতরঞ্জির ওপর বসালো। সে বসে পড়ার পর তার সঙ্গে কথাবার্তা শুরুর একটা উপলক্ষ হিসেবে সুলতানা বলল, “আপনি ওপরে আসতে ভয় পাচ্ছিলেন।”

শুনে লোকটা হাসল, “তুমি কী করে টের পেলে?… ভয়ই-বা পাব কেন?”

এর জবাবে সুলতানা বলল, “কথাটা এজন্যেই বললাম, কারণ আপনি অনেকক্ষণ ওখানে দাঁড়িয়ে ছিলেন, আর তারপর কিছু একটা ভেবে এখানে এলেন।”

এটা শুনে লোকটা আবার হাসল, “তোমার ধারণা ভুল। আমি তোমার ওপরের তলার ফ্ল্যাটের দিকে তাকিয়ে ছিলাম। ওখানে কোনো একটা মেয়েছেলে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে একজন পুরুষ মানুষকে বুড়ো আঙুল দেখাচ্ছিল। দৃশ্যটা আমার পছন্দ হয়েছিল। পরে ব্যালকনিতে সবুজ আলো জ¦লে উঠলে আমি কিছুক্ষণ অপেক্ষা করছিলাম। সবুজ আলো আমার পছন্দের। চোখে খুব আরাম লাগে।”

এই বলে সে কামরাটা খুঁটিয়ে দেখতে লাগল। তারপর হঠাৎ উঠে দাঁড়িয়ে গেল।

সুলতানা জিজ্ঞেস করল, “আপনি চলে যাচ্ছেন?”

লোকটা জবাব দিল, “না, আমি তোমাদের এই বাসাটা দেখতে চাই… চল আমাকে সবগুলো কামরা দেখাও।”

সুলতানা তাকে একে একে বাসার তিনটে কামরা দেখিয়ে দিল। লোকটা একদম চুপচাপ কামরাগুলো পর্যবেক্ষণ করল। তারপর যখন দুজনে আগে যে কামরাটায় বসে কথা বলছিল সেখানে ফিরে এল, লোকটা বলল, “আমার নাম শঙ্কর।”

সুলতানা এই প্রথম নিবিষ্টভাবে শঙ্করের দিকে তাকাল। সে ছিল মাঝারি আকারের আর মামুলি চেহারা সুরতের লোক, কিন্তু তার চোখ দুটো ছিল অসাধারণ পরিস্কার আর উজ্জ্বল। কখনো কখনো সেগুলোতে এক আশ্চর্য ধরনের চমকেরও সৃষ্টি হচ্ছিল। তার শরীরটা ছিল গাট্টাগোট্টা আর বেশ পেশীবহুল। তার কানের ওপরের চুলগুলো সাদা হয়ে উঠছিল। পরনে ছিল জ¦লে যাওয়া রঙের গরম পাতলুন। সাদা রঙের শার্টটার কলার ছিল ঘাড় থেকে ওপরদিকে ওঠানো।

শঙ্কর কিছুটা এমনভাবে সতরঞ্জির ওপর বসে ছিল, মনে হচ্ছিল সুলতানাই যেন তার গ্রাহক। এই চিন্তাটা সুলতানার মন খুব খারাপ করে দিয়েছিল। শেষপর্যন্ত সে শঙ্করকে বলল, “এবার বলুন…”

শঙ্কর এতক্ষণ বসে ছিল, এখন সুলতানার কথা শুনে শুয়ে পড়ল, “আমি কী বলব? তুমি কিছু বল। তুমিই তো আমাকে ডেকেছ।”

সুলতানা যখন কিছু বলল না, সে উঠে বসল, “বুঝতে পেরেছি, তাহলে এবার আমার কাছ থেকেই শোন। যা কিছু তুমি ভেবেছ, সব ভুল। যারা তোমাকে কিছু দিয়ে যায়, আমি তাদের দলে পড়ি না। ডাক্তারদের মতো আমারও একটা ফিস আছে। আমাকে ডাকলে ফিস দিতেই হয়।”

এ কথা শুনে সুলতানা হতভম্ব হয়ে গেল, কিন্তু তারপরও তার বেসামাল হাসি পেয়ে গেল, “আপনি কী কাজ করেন?”

শঙ্কর জবাব দিল, “তোমরা যেটা কর, সেটাই।”

“কোনটা?”

“তুমি কী কাজ কর?”

“আমি… আমি… আমি কিছু করি না।”

“আমিও কিছু করি না।”

সুলতানা ঘাবড়ে গিয়ে বলল, “এটা তো কোনো কথা হল না… আপনি নিশ্চয় কিছু না কিছু একটা করেন।”

শঙ্কর বড় ঠান্ডা গলায় বলল, “তুমিও নিশ্চয় কিছু না কিছু একটা কর।”

“ঝাঁকাঝাঁকি করি।”

“আমিও ঝাঁকাঝাঁকি করি।”

“তাহলে এস, দুজনে মিলে ঝাঁকাঝাঁকি করি।”

“আমি তো হাজির আছি, কিন্তু ঝাঁকাঝাঁকি করার জন্যে আমি কোনো দাম দিই না।”

“আক্কেল করে কথা বল… এটা লঙ্গরখানা নয়।”

“আর আমিও ভলান্টিয়ার নই।”

সুলতানা এখানে থেমে গেল। জিজ্ঞেস করল, “এই ভলান্টিয়ার জিনিসটা কী?”

শঙ্কর জবাব দিল, “বোকা পাঁঠা।”

“আমিও বোকা পাঁঠি নই।”

“কিন্তু তোমার সাথে থাকে ওই যে খোদাবক্স মানুষটা, সে অবশ্যই বোকা পাঁঠা।”

“কেন?”

“কারণ সে নিজের ভাগ্য খোলার জন্যে কয়েক দিন ধরে এমন এক খোদাভক্ত ফকিরের কাছে যাচ্ছে. যার নিজের ভাগ্যই জং ধরা বন্ধ তালার মতো।” এ কথা বলে শঙ্কর হাসল।

এ কথা শুনে সুলতানা বলল, “তুমি হিন্দু, এজন্যে আমাদের একজন বুজুর্গকে নিয়ে এমন ঠাট্টামস্করা করছ।”

শঙ্কর মুচকি হেসে বলল, “এসব জায়গায় হিন্দু-মুসলিমের কোনো প্রশ্ন ওঠে না। পÐিত, মৌলবি আর মিস্টার জিন্নাও যদি এখানে আসেন তো ওঁরাও সবাই শরীফ আদমি হয়ে যান।”

“কি জানি কী সব উল্টোপাল্টা কথা বলছ! এখন থাকবে কিনা বল।”

“থাকতে পারি ওই শর্তে, যেটা প্রথমেই বলেছি।”

“তাহলে সোজা রাস্তা দেখ,” সুলতানা উঠে দাঁড়িয়ে চলে যেতে যেতে বলল।

শঙ্কর ধীরে সুস্থে উঠল। তারপর প্যান্টের পকেটে নিজের দুহাত ঢুকিয়ে চলে যেতে যেতে বলল, “আমি কখনো কখনো এ বাজার দিয়ে আসা যাওয়া করি। যখনই তোমার আমাকে দরকার হবে ডেকে নিয়ো… আমি অনেক কাজের মানুষ।”

শঙ্কর চলে যাওয়ার পর সুলতানা কালো পোশাকের কথা ভুলে গিয়ে অনেকক্ষণ তার কথা ভাবল। লোকটার কথাবার্তা শুনে তার নিজের দুঃখ অনেকটা যেন হালকা হয়ে গিয়েছিল। আম্বালায় যেখানে তার অবস্থা ভালো ছিল সেখানে যদি এই লোকটা আসত, তবে হয়তো তাকে সে অন্য চোখে দেখত এবং খুব সম্ভবত ঘাড় ধাক্কা দিয়ে ওকে বের করে দিত। কিন্তু এখানে যেহেতু তার মনটা খুব খারাপ হয়ে থাকে, তাই শঙ্করের কথাগুলো তার ভালো লেগে গিয়েছে।

সন্ধ্যায় খোদাবক্স ঘরে ফিরলে সুলতানা তাকে জিজ্ঞেস করল, “তুমি আজ সারা দিন কোথায় গায়েব হয়ে গিয়েছিলে?”

খোদাবক্সের তখন ক্লান্তিতে ভেঙে পড়ার অবস্থা। বলল, “পুরানা কেল্লার কাছ থেকে আসছি। ওখানে একজন বুজুর্গ বসছেন কিছুদিন ধরে। ওনার কাছেই প্রতিদিন যাই, যাতে আমাদের ভাগ্যটা ফেরাতে পারি…”

“উনি তোমাকে কিছু বলেছেন?”

“না, এখনও অতটা মেহেরবান হননি… তবে সুলতানা, আমি ওনার যে খেদমত করছি তা কখনো বিফলে যাবে না। আল্লাহ্র ফজল সঙ্গে থাকে তো একদিন নিশ্চয় মালামাল হয়ে যাব।”

সুলতানার মাথার মধ্যে মহররম পালনের চিন্তাটা ভালোভাবে ঢুকে গিয়েছিল। কাঁদো কাঁদো স্বরে সে খোদাবক্সকে বলতে লাগল, “সারাটা দিনের জন্যে বাইরে কোথায় গায়েব হয়ে হয়ে যাও… আমি এখানে পিঁজরার মধ্যে পাখির মতো বন্দী হয়ে থাকি। না কোথাও যেতে পারি, না আসতে পারি। এদিকে মহররম পরবটা চলে এসেছে। তুমি কি কখনো কিছুমাত্র ভেবেছ যে আমার কালো কাপড় দরকার। ঘরে একটা ফুটো কড়ি পর্যন্ত নেই। যে চুড়িগুলো ছিল, সেগুলোও একে একে বিক্রি হয়ে গিয়েছে। এখন কী হবে, তুমিই বল। এভাবে ফকিরের পেছনে আর কতদিন মরতে মরতে ঘোরাফেরা করবে! আমার তো মনে হচ্ছে এখানে দিল্লিতে খোদাও আমাদের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। আমার কথা যদি শোনো তো বলি, নিজের কাজকাম শুরু করে দাও। কিছু না কিছু ব্যবস্থা তো হয়ে যাবেই।”

খোদাবক্স সতরঞ্জির ওপর চিৎ হয়ে শুয়ে পড়ে বলতে লাগল, “কিন্তু নিজের কাজকাম শুরু করার জন্যেও তো কিছু পয়সাকড়ির দরকার… খোদার দোহাই, এখন এসব দুঃখর কাহিনি বোলো না। আমার এখন এসব সহ্য হচ্ছে না। আম্বালা ছেড়ে এসে সত্যিই আমি বিরাট ভুল করেছি। কিন্তু যা করা হয় তা আল্লাহ্-ই করেন এবং আমাদের ভালোর জন্যেই করেন। কে জানে, হয়তো আর কিছু কষ্ট সহ্য করার পর আমরা…”

তার কথা শেষ হওয়ার আগেই সুলতানা বলে ফেলল, “খোদার দোহাই লাগে, তুমি কিছু কর। চুরি কর আর ডাকাতি কর, আমাকে একটা শালোয়ারের কাপড় এনে দিতেই হবে। আমার কাছে সাদা পিওর সিল্কের কামিজ পড়ে আছে, ওটাকে আমি কালো রঙে ছুপিয়ে নেব। সুতির একটা নতুন সাদা ওড়নাও আছে আমার কাছে, যেটা তুমি দিওয়ালির সময় কিনে দিয়েছিলে, সেটাকেও কামিজের সঙ্গে কালো রঙের করে নেব। শুধু একটা শালোয়ারের অভাব, ওটা তুমি যেভাবে পার পয়দা করে দাও… তোমাকে আমার মাথার দিব্যি, কোনো না কোনোভাবে ওটা অবশ্যই নিয়ে এসো… না আনলে আমার মাথা খাও।”

“খোদাবক্স শোয়া থেকে উঠে বসল, “তুমি খামোখা আমার ওপর চাপ দিয়েই চলেছ… আমি কোত্থেকে আনব? আমার কাছে বলতে গেলে বিষ খাওয়ার পয়সাই নেই।”

“যা পার কর, কিন্তু আমাকে সাড়ে চার গজ কালো সাটিনের কাপড় এনে দাও।”

“দোয় কর যেন আল্লাহ্ আজ রাতে দু-তিনজন লোক পাঠিয়ে দেন।”

“তা হলে তুমি কিছু করবে না! তুমি কিন্তু চাইলেই এ কটা টাকা যোগাড় করতে পার। যুদ্ধের আগে এই সাটিনের কাপড়ের গজ বারো-চৌদ্দ আনায় পাওয়া যেত, কিন্তু এখন এর দাম উঠেছে সোয়া এক টাকায়। সাড়ে চার গজ কাপড়ে কত টাকা খরচ হবে?”

“এখন তুমি যখন বললে, কোনো একটা ব্যবস্থা করব।” এই বলে খোদাবক্স উঠল, “নাও, এখন এসব কথা ভুলে যাও। আমি হোটেল থেকে খাবার নিয়ে আসছি।”

হোটেল থেকে আনা খাবার তারা দুজনে মিলে বিষের মতো খেয়ে শুয়ে পড়ল। সকাল হল। খোদাবক্স পুরানা কেল্লার পাশে আস্তানা গাড়া সেই ফকিরটার কাছে চলে গেল আর সুলতানা বাসায় একলা হয়ে গেল। কতক্ষণ শুয়ে রইল সে। তারপর কিছুক্ষণ এঘর ওঘর ঘোরাঘুরি করল। দুপুরের খাবার খাওয়ার পর সে তার সুতির ওড়না আর পিওর সিল্কের কামিজটা বের করে নিচে লন্ড্রিওয়ালাকে দিয়ে এল কালো রঙ করার জন্যে। ওখানে কাপড় ধোয়া ছাড়া রঙানোর কাজও হত।

কাজটা সেরে বাসায় ফিরে সে ফিল্মি বইগুলো পড়তে লাগল, যেগুলোতে লুকিয়ে ছিল তার দেখা কিছু ফিল্মের কাহিনি আর গান। শুয়ে শুয়ে বইগুলো পড়তে পড়তে সে ঘুমিয়ে পড়ল। ঘুম থেকে যখন জাগল তখন বিকেল চারটা বেজে গেছে, কারণ রোদ উঠোন থেকে নালার কাছে চলে এসেছিল।

নাওয়া ধোয়া সেরে অবসর হয়ে, গরম চাদরটা গায়ে চড়িয়ে সুলতানা ব্যালকনিতে এসে দাঁড়াল। প্রায় ঘণ্টাখানেক সে ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে রইল। তখন সন্ধ্যে হয়ে এসেছে। চারপাশে বাতি জ¦লে উঠছে। নিচে রাস্তায় রোশনাইয়ের আভাস ফুটে উঠতে লাগল। ঠান্ডায় খানিকটা অসুবিধে হচ্ছিল, কিন্তু কষ্টটা সুলতানার মালুম হচ্ছিল না।

সে রাস্তায় চলাচল করতে থাকা টাঙ্গা আর মোটরগুলোকে অনেকক্ষণ ধরে দেখতে থাকল। এমন সময় তার চোখে পড়ল রাস্তা দিয়ে এগিয়ে আসতে থাকা শঙ্করকে। বাড়ির নিচে পৌঁছে সে ঘাড় উঁচু করে তাকাল আর সুলতানাকে দেখতে পেয়ে একটা হাসি দিল। কী ভেবে কে জানে, সুলতানা তাকে হাতের ইশারায় ওপরে ডেকে আনল।

শঙ্কর ওপরে চলে আসার পর সুলতানা খুব পেরেশান হয়ে ভাবছিল, তার সঙ্গে কী কথা বলবে। আসলে সে কোনো চিন্তাভাবনা না করেই তাকে ইশারা করে ফেলেছিল। শঙ্করকে একেবারে নিশ্চিন্ত দেখাচ্ছিল, যেন এটা তার নিজেরই ঘরবাড়ি। ভদ্রতার ধার না ধেরে সে হেলান দেয়ার তাকিয়াটাকে মাথার নিচে দিয়ে শুয়ে পড়েছিল সেই প্রথম দিনের মতোই। সুলতানা অনেকক্ষণ পর্যন্ত তার সঙ্গে কোনো কথা বলল না। তখন শঙ্কর তাকে বলল, “তুমি আমাকে একশ বার ডেকে নিতে পার আর একশ বার চলে যেতেও বলতে পার… এসব ব্যাপারে আমি কখনো মেজাজ খারাপ করি না।”

সুলতানা অস্বস্তিতে পড়ে গিয়ে বলল, “না না, বস। তোমাকে যেতে বলছে কে?”

এ কথা শুনে শঙ্কর হেসে ফেলল, “তা হলে আমার শর্তগুলো তুমি মেনে নিচ্ছ।”

“কিসের শর্ত?” সুলতানা হেসে বলল, “আমাকে নিকাহ করছ নাকি?”

“কিসের নিকাহ আর শাদি। জীবনে তুমিও কখনো নিকাহ করবে না, আমিও না। ও জিনিস আমাদের মতো মানুষদের জন্যে না। ওসব কথা ছাড়, কোনো কাজের কথা বল।”

“কী বলব বল?”

“তুমি মেয়েমানুষ… এমন কোনো কথা শুরু কর যাতে কিছুক্ষণের জন্যে মনটা ভালো হয়ে যায়। এ দুনিয়ায় দোকানদারির বাইরে অন্য কিছুও তো আছে।”

মানসিকভাবে সুলতানা এখন শঙ্করকে মেনে নিয়েছিল। সে বলল, “সাফ সাফ বলে দাও তো, তুমি আমার কাছে কী চাও?”

“যা অন্যেরা চায়।” শঙ্কর শোয়া থেকে উঠে বসে গেল।

“তোমার আর অন্যদের মধ্যে তা হলে ফারাক কী রইল?”

“তোমার আর আমার মধ্যে কোনো ফারাক নেই। ওদের আর আমার মধ্যে আসমান-জমিন ফারাক। এমন অনেক কথা আছে, যেগুলো জিজ্ঞেস করতে নেই, বরং নিজে নিজেই বুঝে নিতে হয়।

সুলতানা শঙ্করের কথাটা বোঝার জন্যে খানিকক্ষণ চেষ্টা করে বলল, “আমি বুঝে গিয়েছি।”

“তা হলে বল, তুমি কী চাও।”

“তুমি জিতেছ, আমি হেরেছি। তবে আমি বলছি, আজ পর্যন্ত এমন কথা কেউ মুখে নিশ্চয় স্বীকার করেনি।”

“ভুল বলছ তুমি… এ মহল্লায় তুমি এমন অনেক গবেট মেয়েছেলে দেখতে পাবে যাদের কখনো প্রত্যয়ই হবে না যে কোনো মেয়েছেলে এমন অপদস্থ হওয়ার কথা স্বীকার করতে পারে, যা তুমি কোনো আশ্বাস ছাড়াই স্বীকার করে নিচ্ছ। কিন্তু তাদের প্রত্যয় না হওয়া সত্ত্বেও তুমি আছ হাজারে… তোমার নাম সুলতানা না?”

“সুলতানাই তো।”

শঙ্কর উঠে দাঁড়িয়ে গিয়ে হাসতে লাগল, “আমার নাম শঙ্কর… এই নামগুলোও কেমন আজব আর উল্টোপাল্টা হতে পারে! চল ভেতরের ঘরে যাই।”

শঙ্কর আর সুলতানা সতরঞ্জি পাতা কামরাটায় যখন ফিরে এল, দুজনেই হাসছিল, কোন্ কথায় কে জানে। শঙ্কর চলে যাওয়ার সময় সুলতানা বলল, “শঙ্কর, আমার একটা কথা রাখবে?”

জবাবে শঙ্কর বলল, “আগে কথাটা তো বল।”

সুলতানা খানিকটা সঙ্কোচের সঙ্গে বলল, “বললে তুমি বলবে যে আমি দাম উসুল করতে চাইছি, কিন্তু…”

“বল বল… থেমে গেলে কেন?”

সুলতানা সাহস করে বলে ফেলল, “কথা হল কি, মহররম তো প্রায় এসে পড়েছে আর আমার হাতে এত পয়সা নেই যে একটা কালো শালোয়ার বানিয়ে নিতে পারব। এখানকার সব দুঃখের কথা তো তুমি আমার কাছ থেকে শুনেছ। কামিজ আর ওড়না আমার কাছে আছে, যেগুলো আমি আজকে কালো রঙে ছোপাতে দিয়ে দিয়েছি।”

শঙ্কর এটা শনে বলল, “তুমি চাইছ যে আমি তোমাকে কিছু টাকা দিই যাতে তুমি একটা কালো শালোয়ার বানিয়ে নিতে পার।”

সুলতানা তাড়াতাড়ি বলল, “না, আমি বলতে চাইছি যে, সম্ভব হলে তুমি আমাকে একটা কালো শালোয়ার বানিয়ে দাও।”

শঙ্কর মুচকি হেসে বলল, “আমার পকেটে তো কিছু থাকে কালেভদ্রে কদাচিত। তবে যে করেই হোক, আমি চেষ্টা করব। মহররমের পয়লা তারিখেই তুমি কালো শালোয়ার পেয়ে যাবে। নাও, এখন খুশি তো?”

সুলতানার কানফুল দুটোর দিকে তাকিয়ে শঙ্কর জিজ্ঞেস করল, “এই কানফুলগুলো আমাকে দিতে পারবে?”

সুলতানা হেসে বলল, “এটা দিয়ে তুমি কী করবে? রুপোর দুটো মামুলি কানফুল। এগুলোর দাম খুব বেশি হলে টাকা পাঁচেক হতে পারে।”

এ কথা শুনে শঙ্কর বলল, “আমি তোমার কাছ থেকে কানফুল চেয়েছি, দাম জানতে চাইনি। বল, দিচ্ছ কিনা।”

“ধরো, নাও,” এই বলে সুলতানা কানফুল দুটো খুলে নিয়ে শঙ্করকে দিয়ে দিল। দেয়ার পর তার খানিকটা আফসোস হল, কিন্তু শঙ্কর ততক্ষণে চলে গিয়েছে।

সুলতানার মোটেও বিশ্বাস ছিল না যে শঙ্কর তার কথা রাখবে। কিন্তু আটদিন পর, মহররমের পয়লা তারিখে সকাল নটায় দরজায় টোকা পড়ল। দরজা খুলে সুলতানা দেখতে পেল, শঙ্কর দাঁড়িয়ে আছে। খবরের কাগজে মোড়ানো একটা জিনিস সুলতানাকে দিয়ে সে বলল, “সাটিনের কালো শালোয়ার… দেখে নাও, একটু হয়তো লম্বা হবে… এখন আমি যাই।”

শালোয়ার দিয়েই শঙ্কর চলে গেল, সুলতানার সঙ্গে আর কোনো কথাবার্তা না বলেই। তার পাতলুন জায়গায় জায়গায় কুঁচকে গিয়েছিল, চুল ছিল এলোমেলো। দেখে মনে হচ্ছিল, এইমাত্র ঘুম থেকে উঠেই সে সোজা এখানে চলে এসেছে।

সুলতানা কাগজের মোড়কটা খুলল। সাটিনের কালো শালোয়ারটা ছিল সে আনোয়ারির কাছে যেমনটা দেখে এসেছিল ঠিক সেরকম। সুলতানা খুব খুশি হল। কানফুল আর এই সওদার ব্যাপারে তার যে আফসোস ছিল, শঙ্করের এই প্রতিশ্রুতি রক্ষায় তা দূর হয়ে গেল।

দুপুরে সে নিচে লন্ড্রিতে গিয়ে তার কালো রঙে ছোপানো কামিজ আর ওড়না নিয়ে এল। সে যখন তার কালো শালোয়ার, কামিজ আর ওড়না পরে নিেেয়ছে, দরজায় টোকা পড়ল। সুলতানা দরজা খুললে আনোয়ারি ভেতরে চলে এল। সুলতানার কালো পোশাক দেখে সে বলল, “কামিজ আর ওড়না তো রঙ করিয়েছ মনে হচ্ছে, কিন্তু এই শালোয়ারটা নতুন… কখন বানালে।”

সুলতানা বলল, “আজই দর্জি দিয়ে গিয়েছে।” কথাটা বলতে বলতে তার চোখ পড়ল আনোয়ারির কানের দিকে, “এই কানফুল দুটো কোত্থেকে নিলে?”

আনোয়ারি বলল, “আজই চেয়ে নিয়েছি।”

এর পর দুজনকেই চুপ হয়ে যেতে হল কিছুক্ষণের জন্যে।

You must be logged in to post a comment.