Loading

সেরে ওঠার সময়

কর্কটক্রান্তি রেখার কিনারায় এসে যাওয়া সূর্যের
ক্রমোষ্ণ হয়ে ওঠা রোদ্দুরে গা এলিয়ে দিয়ে
প্রকৃতি চাটছিলো তার ক্ষতবিক্ষত অঙ্গপ্রত্যঙ্গগুলো

বহু অঙ্গ গলিত কুষ্ঠের মতো দগদগে ঘায়ে ভরা
কিছু অঙ্গ ইতোমধ্যেই খসে গেছে

তার অরণ্যকেশরাজি
স্তনগিরিমালা
অশ্রু-স্বেদ-শোণিতধারার নদী-সমুদ্র…

সব বিষাক্ত অথবা বিলীয়মান কিংবা বিলুপ্ত নিঃশেষে

শুধু একটা জীবের জন্যে
প্রকৃতিজাত হয়েও যে মাতৃপরিচয় অস্বীকার করে
অপ্রাকৃত রীতিতে যে মাতৃগামী হতে চায়
প্রকৃতি জয়ের কথা বলতে বলতে
প্রকৃতি হত্যাকেই যে নিজের ব্রত বানিয়েছে

পৃথিবী নামের গ্রহটাকে বানিয়েছে শয়তানের চুল্লি

তবে কিনা প্রকৃতির প্রাণশক্তি বিপুল!
ইতোমধ্যেই সে সারিয়ে তুলেছে তার বহু ক্ষত
ফিরিয়ে এনেছে বহু হারিয়ে যাওয়া প্রত্যঙ্গকে

সাগরগুলোর কিনারার কাছে ফিরে এসেছে ডলফিনরা
নদীতে আনন্দে ডিগবাজি খাচ্ছে অন্ধ শুশুক
সৈকতগুলো ভরে যাচ্ছে লাল ফুল সবুজ পাতায় ভরা সাগরলতায়
ধোঁয়াশাহীন আকাশ আর দূষণহীন সাগর
পরস্পর পাল্লা দিচ্ছে নীলিমার বিভঙ্গ সৃজনে

বহুদিন পর প্রকৃতি তার গায়ে জড়ানো ওজোনের চাদরটা
সারাই করে নিতে পেরেছে
অ্যান্টার্কটিকায় আবার জমে উঠেছে তুহিনতার আসর
বরফ আর তেমন গলছে না

কারণ গত কদিন ওই জীবটা দৃশ্যপটে নেই
প্রকৃতির পাঠানো সর্বশেষ প্রতিশোধ বাহিনীটা
তাদের অনেককে হত্য করেছে

তবে তার চেয়েও সফলভাবে করেছে
বেঁচে থাকাদের সবাইকেই প্রায় গৃহবন্দী
পারস্পরিক সংযোগবিহীন

ফাঁকেফোকরে গেরিলা হামলা চালিয়ে
জীবগুলোকে এখনও হত্যা করে চলেছে ওরা

তবে ওরা সবচেয়ে বেশি সফল মৃত্যুভীতি সৃষ্টিতে
যারা বেঁচে আছে, তারাও আতঙ্কে মৃতপ্রায়

রোদ্দুরে গা এলিয়ে দিয়ে
প্রকৃতি ক্ষতবিক্ষত অঙ্গপ্রত্যঙ্গগুলো চাটে, আর
অর্ধনিমীলিত চোখে সানন্দে ভাবে তার
সাম্প্রতিকতম সফল অভিযানের কথা

ভাবে
একদিন তার জলে পোকার মতো জন্মেছিলো
এই জীবগুলোর পূর্বপুরুষ, আর
দরকার হলে, দলে দলে মেরে
তাদের নিশ্চিহ্ন করতে হবে
পোকার মতোই

“আত্মরক্ষার অধিকার আমার নিশ্চয় আছে,”
অস্ফূটে বলে সে
তাকে ঘিরে তখন সোল্লাস কলরবে মাতোয়ারা
অন্যসব প্রাণী ও উদ্ভিদ
যারা প্রকৃতির প্রকৃত সন্তান

অপরাহ্ণ ১:২০
০৩.০৪.২০২০
ঢাকা

You must be logged in to post a comment.