Loading

আর্তুর রাঁব্যো’র দুটো কবিতা

[আর্তুর রাঁব্যো, পুরো নাম: জঁ নিকোলা আর্তুর রাঁব্যো (Jean-Nicholas Arthur Rimbaud; ২০ অক্টোবর, ১৮৫৪ – ১০ নভেম্বর, ১৮৯১) ফ্রান্সের তথা বিশ্বের সর্বকালের সেরা কবিদের একজন। মজার ব্যাপার হলো, রাঁব্যো তাঁর অধিকাংশ কবিতাই লিখেছিলেন তাঁর নিতান্ত কিশোর বা তরুণ বয়সে।

মাত্র সতেরো বছর বয়সেই তুমুল আলোড়ন সৃষ্টিকারী কবিতার মাধ্যমে তিনি পারি’র (প্যারিসের) কবিসমাজকে উদ্বেলিত করে তুলেছিলেন। তাঁর ‘মাতাল তরণী’ ((ল্যো বাত্যু ইভ্র্‌) কবিতাটি পড়ে সে-যুগের ফ্রান্সের অন্যতম সেরা ও জনপ্রিয় প্রতীকবাদী কবি পল ভর্লেন তাঁর প্রতি অত্যন্ত আকৃষ্ট হয়ে পড়েন। তাদের মধ্যে ব্যক্তিগত পর্যায়েও উষ্ণ সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

কিন্তু মাত্র ২০ বছর বয়সেই রাঁব্যো সবধরনের সৃষ্টিশীল লেখালেখি ছেড়ে দেন। এর পর তিনি আরব এবং আফ্রিকার বিভিন্ন অংশে ভ্রমণ করেন। মাত্র ৩৭ বছর বয়সে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর সবচেয়ে বিখ্যাত লেখনির মধ্যে ‘নরকে এক ঋতু’ (আঁ সেজঁ অঁ অঁফের), মাতাল তরণী (ল্যো বাত্যু ইভ্র্‌) এবং গদ্যকবিতা ‘ইলুমিনাসিয়ঁ’ অন্যতম।

আর্তুর রাঁব্যো (Arthur Rimbaud)’র দুটো পাঠকপ্রিয় কবিতা ‘L’Éternité’ ও ‘Rêvé Pour l’hiver’ যথাক্রমে ’মহাকাল’ এবং ‘এক শীতের স্বপ্ন’ নামে বাংলায় অনুবাদ করে দিলাম,, ফরাসি ভাষায় মূল কবিতাসহ।]

১.
L’Éternité

Elle est retrouvée.
Quoi? – L’Éternité.
C’est la mer allée
Avec le soleil.

Âme sentinelle,
Murmurons l’aveu
De la nuit si nulle
Et du jour en feu.

Des humains suffrages,
Des communs élans
Là tu te dégages
Et voles selon.

Puisque de vous seules,
Braises de satin,
Le Devoir s’exhale
Sans qu’on dise : enfin.

Là pas d’espérance,
Nul orietur.
Science avec patience,
Le supplice est sûr.

Elle est retrouvée.
Quoi ? – L’Éternité.
C’est la mer allée
Avec le soleil.

মহাকাল

আমি তাকে ফের খুঁজে পেয়েছি।
কাকে? – মহাকালকে।
সূর্যের সাথে পালিয়ে যাওয়া
সেই সমুদ্রকে।

প্রহরী প্রাণ,
চলো, চুপিচুপি স্বীকার করি
শূন্যতায় ভরা রাত আর
আগুনে পুড়ে যাওয়া দিনের কথা।

মানুষের চাটুবাক্য থেকে,
নিত্যদিনের চাওয়া-পাওয়া থেকে
তুমি সরে আসো এখানে,
চাইলে উড়ে যেতেও পারো।

যেহেতু একা শুধু তোমার কাছ থেকে
সাটিনের মতো জ্বলজ্বলে জ্বলন্ত অঙ্গার,
কর্তব্যের ভারী নিঃশ্বাস বেরিয়ে আসে
শেষ পর্যন্ত কারো কিছু বলা ছাড়াই।

এখানে কোনো আশা নেই,
কোন ভাষা নেই।
জ্ঞান আর সহ্যশক্তি।
নিপীড়ন নিশ্চিত।

আমি তাকে ফের খুঁজে পেয়েছি।
কাকে? – মহাকালকে।
সূর্যের সাথে পালিয়ে যাওয়া
সেই সমুদ্রকে।

২.
Rêvé Pour l’hiver

L’hiver, nous irons dans un petit wagon rose
Avec des coussins bleus.
Nous serons bien. Un nid de baisers fous repose
Dans chaque coin moelleux.

Tu fermeras l’oeil, pour ne point voir, par la glace,
Grimacer les ombres des soirs,
Ces monstruosités hargneuses, populace
De démons noirs et de loups noirs.

Puis tu te sentiras la joue égratignée…
Un petit baiser, comme une folle araignée,
Te courra par le cou…

Et tu me diras : “Cherche !”, en inclinant la tête,
– Et nous prendrons du temps à trouver cette bête
– Qui voyage beaucoup…এক শীতের স্বপ্ন

এক শীতের স্বপ্ন

শীতে আমরা ঘুরে বেড়াবো নীল গদিওয়ালা
গোলাপি গাড়িতে চড়ে।
আমাদের খুব ভালো লাগবে। একঝাঁক পাগলা চুমুও
প্রতীক্ষায় আছে প্রতিটি মোড়ে।

তুমি তোমার চোখ বুঁজে রাখবে, যাতে দেখতে না-হয়,
কাঁচের মধ্যে দিয়ে,
সন্ধ্যার ভ্রূকুটিকুটিল ছায়াগুলো,
দাঁত-খিঁচানো ওই দানবগুলো, পাশ দিয়ে চলে যাওয়া একদল
কালো নেকড়ে আর কালো প্রেতমূর্তি।

তারপর তুমি অনুভব করবে– গালে তোমার বেশ সুড়সুড়ি দিচ্ছে—
ছোট্ট একটা চুমু, পাগলা গোছের একটা মাকড়সার মতো
ছুটে যাচ্ছে তোমার ঘাড়ের ওপর দিয়ে—

আর তখন মাথা নুইয়ে তুমি বলবেঃ “ধরো ওটাকে!”
– আর প্রাণীটাকে খুঁজে বের করতে আমরা খানিকটা সময় নেবো
– কে যায় ঘুরে বেড়াতে অতদূর—

You must be logged in to post a comment.